৩ সেপ্টেম্বর, ১৯০৫ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনের কারিসব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ দেহ ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। জ্যাকি মিলস নামে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করেন। বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন ও চমৎকার ফিল্ডিং করতেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবেশে বড় হন। পিতা অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।

১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড সফর করেন। এ সফরে ৩৭.৯০ গড়ে পাঁচ শতক সহযোগে ১২৫১ রান তুলেন। একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন সারের বিপক্ষে।

১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিন্ডসে উইয়ার ও এডি ম্যাকলিওডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটিতে স্টুই ডেম্পস্টারের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ২৭৬ রানের জুটি গড়েন। ১৯৭২ সালে জর্জটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্লেন টার্নারটেরি জার্ভিসের ৩৮৭ রানের জুটি গড়ার পূর্বে তৎকালীন রেকর্ড ছিল। ঐ ইনিংসে তিনি ১১৭ রান তুলেন। প্রথম ইনিংসে শতক হাঁকিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়। স্মর্তব্য যে, অভিষেকে প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৭ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩১ সালে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এবারও বিশাল সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিন শতক সহযোগে ৩১.৮১ গড়ে ১৩৬৮ রান তুলেন। কিন্তু, টেস্টে তেমন সফল হননি। টেস্ট সিরিজের চার ইনিংস থেকে মাত্র ৯১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে বিল বোসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধকালীন ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১১ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে ওয়াইকাটোর হ্যামিল্টনে ৬৭ বছর ৯৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট