২০ জুন, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার চায়নাম্যান্স ফ্লাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেটে কার্লটনের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম একাদশের পক্ষে ৪৫টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে মেলবোর্নভিত্তিক ইস্ট মেলবোর্ন ক্লাবের পক্ষে ৪টি খেলায় অংশ নেন। পরবর্তীতে, ১৮৯০-৯১ মৌসুম থেকে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত ফিটজরয়ের পক্ষ ২৭ খেলায় অংশ নিয়েছলেন।
১৮৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ৬৫ খেলায় অংশ নিয়ে ২০.৯৩ গড়ে ২৪০৭ রান সংগ্রহ করেন। সর্বোচ্চ ১০৯ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ২২.০৯ গড়ে ৭৪ উইকেট করায়ত্ত্ব করেন। ঔপনিবেশিক কিংবা রাজ্য দলের ১৬ খেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৮৮৫ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অ্যাফি জার্ভিস, আলফ্রেড মার, হ্যারি মাসগ্রোভ, জন ট্রাম্বল, রোল্যান্ড পোপ, স্যাম মরিস, উইলিয়াম ব্রুস ও ডিগার রবার্টসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৪ ও ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৮৮৮ ও ১৮৯৯ সালে – এ দুইবার অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৫ ও ৭৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ২৫.১৫ গড়ে ৪৭৮ রান তুলেছেন, ১২৭ রান খরচায় এক উইকেট পেয়েছেন ও ১৩ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। নভেম্বর, ১৯০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল কাউন্সিল গঠিত হলে দুইজন ভিএফএল প্রতিনিধির অন্যতম হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে এএফসি, ভিএফএল, ফিটজরয় এফসি ও এসেনডন এফসি’র আজীবন সদস্যের মর্যাদা পান। ১৯৯৬ সালে এএফএল হল অব ফেম এবং ২০০৬ সালে কার্লটন্স হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২২ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ফিটজরয়ের ভিক্টোরিয়ান ফ্রি চার্চে অ্যাগ্নেস মেরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির কোন সন্তানাদি ছিল না। ১৭ নভেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফেয়ারফিল্ড পার্ক এলাকায় ৭৭ বছর ১৫০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। হাইডেলবার্গ সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
