| |

জ্যাক শার্প

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৮ তারিখে হিয়ারফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ক্ষীপ্রগতিতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ১৫ মৌসুম খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯০৪ সালের দলকে অপরাজিত অবস্থায় শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখে। এরপর, আরও সাত মৌসুম শৌখিন খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯০৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অন্তর্ভূক্ত হন। ১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, হিয়ারফোর্ডের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। খেলায় তিনি ৬১ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৯ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৬৭ ও ০/৩৪ লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৫ ও ০* সংগ্রহ করেছিলেন। চূড়ান্ত টেস্টে ১৭০ মিনিটে ১০৫ রান সংগ্রহের পূর্ব পর্যন্ত তেমন কিছুই ভূমিকা রাখতে পারেননি। এ ইনিংসটি তিনটি প্রথম ইনিংসের মধ্যে সেরা ছিল। এটিই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রাপ্তি ছিল। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্মুখীন হন। মিডলসেক্সের বিপক্ষে একটি ক্যাচ ফস্কে গেলে তিনি দর্শকদের কোপানলে পড়েন। শুরুতে আর কখনও এ মাঠে না খেলার কথা ঘোষণা করলেও ঐ মৌসুমের গ্রীষ্মের শেষদিকে অবসর নেয়ার পূর্বে আবারও খেলেছিলেন।

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে মার্সিসাইডের প্রধান দুই ক্লাবে খেলেছেন এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে ফুটবল ও ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৬ সালে এফএ কাপের শিরোপা বিজয়ী এভার্টনের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। আউটসাইড-রাইট অবস্থানে খেলতেন। পরবর্তীকালে দলটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হিয়ারফোর্ডের অন্যতম কিংবদন্তী খেলোয়াড়ের সম্মানার্থে আইন গেটে প্লাক অবমুক্ত করা হয়। এছাড়াও, অ্যাস্টন ভিলার পক্ষে খেলেছেন।

১৯২৪ সালে ইংল্যান্ড দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ক্রীড়া সরঞ্জামাদি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৩৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়াভারট্রি এলাকায় হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হলে ৫৯ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তিনদিন পর চিল্ডওয়ালভিত্তিক অল সেন্টস চার্চে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • |

    জর্জ স্ট্রিট

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে সারের মুরস ফার্ম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯২৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাসেক্স দলের পক্ষে…

  • |

    এনজাবুলো এনকুবে

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়ন হলেও বৃহৎ হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। কার্যকর অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মাখায়া এনটিনিকে ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। আগ্রাসী ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ…

  • |

    নাথান স্মিথ

    ১৫ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে হোয়াঙ্গারেইয়ে অনুষ্ঠিত ওতাগো বনাম নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের…

  • |

    নাসির জামশেদ

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অবস্থান সুদৃঢ়করণে দীর্ঘদিনের আশাবাদ পূরণে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। সাঈদ আনোয়ার ও ম্যাথু হেইডেনকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ব্যাটিংয়ের ধরন অনেকাংশেই তাঁদের…

  • | |

    ড্যারিল কালিনান

    ৪ মার্চ, ১৯৬৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৬০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। বিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তাঁর সহজাত দক্ষতা লক্ষ্য করা যায়। রান সংগ্রহের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৮৩-৮৪…

  • | |

    সুরেন্দ্রনাথ

    ৪ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সহজাত প্রকৃতির স্বল্পসংখ্যক ভারতীয় সিমারদের অন্যতম হিসেবে সুইং ও অসম্ভব দম সহযোগে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। উপযোগী পরিবেশে দীর্ঘ সময়…