৮ জানুয়ারি, ১৯০২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের মডেসলে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সন্দেহাতীতভাবে ল্যাঙ্কাশায়ারের সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর বামহাতের স্পিন বোলিং ধীর ও নিম্নমূখী উইকেটে অধিকতর কার্যকরী ছিল। লেল্যান্ড মটর্সের পক্ষে দারুণ খেলার পর ১৯২৪ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্যরূপে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে প্রথম খেলেন।
১৯২৪ থেকে ১৯৪৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সারের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। দুই বছর পর লিভারপুলে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২২ রান তুলেন। ম্যানচেস্টারভিত্তিক কাউন্টি দলটির পক্ষে একুশ হাজারের অধিক প্রথম-শ্রেণীর রান ও ৫৫১টি উইকেট দখল করেছিলেন। তেরো মৌসুম সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত উপর্যুপরী এগারো মৌসুম এ সফলতা পান। ১৯৩৪ সালে সর্বাধিক ২২৬১ রানের সন্ধান পান। এ মৌসুমেই ল্যাঙ্কাশায়ার দল পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন কাউন্টির মর্যাদা পায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব-পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মর্যাদা পান। ১৯৩২ সালে বল হাতে নিয়ে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৮০ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৩৬ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে মনোনীত হন ও £১,২৬৬ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ইনিংসের সবকটি উইকেট লাভের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ও ঐ ইনিংসে ৯/৪২ পেয়েছিলেন। তবে, ঘরোয়া আসরের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি।
১৯৩৫ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। এ সফরে চার টেস্টে অংশ নেন। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিম স্মিথ, এরল হোমস, জর্জ পেইন ও এরিক হোলিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৪ উইকেটে জয় পেলে তাঁর দল চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী গ্রীষ্মে আরেকটি টেস্টে অংশ নেন। ১৯৩৫ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৭ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের মেডেলে এলাকায় গাড়ী দূর্ঘটনায় মাত্র ৪৪ বছর ৯৯ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। রোলস-রয়েসের ব্যবসায়িক কাজ তদারকী করে বাড়ী ফেরার পথে দূর্ঘটনার কবলে পড়েন।
