১১ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের ক্লপহিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘লং জ্যাক’ ডাকনামে ভূষিত জ্যাক ডারস্টন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। দীর্ঘ উচ্চতার কারণে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডানহাতি ফাস্ট বোলার ছিলেন। এরফলে, পিচে বল ফেলার পর ‘ব্রেক ব্যাক’ করাতে পারতেন। পরবর্তীতে, মিডিয়াম পেস ও নিচেরসারির কার্যকর মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পান। যুদ্ধের পূর্বে পাড়ার ক্রিকেটে ক্লপহিলের পক্ষে খেলায় অংশ নিতেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে হ্যাম্পশায়ারের ক্রিকেটে ই.জি. ওয়েনইয়ার্ডের সুপারিশক্রমে ১৯১৪ সালে মিডলসেক্সের মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষ হলে লর্ডসে ফিরে আসেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৯ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। অভিষেক মৌসুমে চার খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
মিডলসেক্সের পক্ষে ৩৪৯টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ২১.৯৭ গড়ে ১১৭৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন ৮/২৭। এছাড়াও, ১১.৬৩ গড়ে ৩৫৬৯ রান তুলেছেন। ১৯৩০ সালে লর্ডসে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯২ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। পাশাপাশি ২৩০টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। ছয় মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, ১৯২১ সালে ১৯.৫০ গড়ে ব্যক্তিগত সর্বাধিক ১৩৬ উইকেট দখল করেন। দুইবার বিদেশ সফরে যান। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে কানের নেতৃত্বে জ্যামাইকা ও ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে ব্রিঙ্কেনহামের নেতৃত্বে দক্ষিণ আমেরিকা সফর করেন।
১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। এমসিসি’র সদস্যরূপে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ১১ উইকেট দখল করলে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে ইংরেজ দলে রাখা হয়। ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আলফ্রেড ডিপার, জন ইভান্স ও নাইজেল হেগের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় ১৩৬ রান খরচায় তিনি ২৭.২০ গড়ে ৫ উইকেট ও ৮ রান তুলেন। উভয় ইনিংসে তিনি সি.জি. ম্যাকার্টনি’র উইকেট পান। এছাড়াও, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংকে শূন্য রানে বিদেয় করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয় ও আর ইংল্যান্ড দলে খেলানো হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। ব্রেন্টফোর্ডের পক্ষে গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, আম্পায়ার হিসেবে একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ৮ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে মিডলসেক্সের নরউড গ্রীন এলাকার হাসপাতালে ৭১ বছর ২৭১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
