|

জ্যাক ক্রফোর্ড

১ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে সারের কেন হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

রেপটন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। রেপটনে অধ্যয়নকালে ব্যাটসম্যান ও বোলার হিসেবে পেসের বৈচিত্র্যতা এনে এতোটাই সাড়া জাগিয়েছিলেন যে, ১৯০৪ সালে ১৭ বছর বয়সে সারে দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। চেল্টনহামে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এইচ. সি. ম্যাকডোনেলকে সাথে নিয়ে বোলিং অপরিবর্তিত অবস্থায় তিনি ১০/৭৮ ও অপর সতীর্থ শৌখিন বোলার ১০/৮৯ লাভ করেছিলেন।

সচরাচর তিনি চশমা পরিধান করে খেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৪ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯০৬ থেকে ১৯০৯ সময়কালে সারের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। উপর্যুপরী দুইবার ‘ডাবল’ লাভ করেন ও ১৯০৮ সালে মাত্র দুই উইকেট যুক্ত করতে না পারায় তৃতীয়বারের মতো ‘ডাবল’ লাভ করতে পারেননি।

১৯০৬ থেকে ১৯০৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্নি হেইস, ফ্রেডরিক ফেনওয়াল্টার লিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ ও ৪৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১৪ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯০৫-০৬ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৪ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী হলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯০৭ সালে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০/২০ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৩৩ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ২ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৭-০৮ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরে ২৪.৭৯ গড়ে ৩০ উইকেট দখল করে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ২৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫২ ও ৫/১৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে সারে কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়েন। এরপর, অস্ট্রেলিয়া চলে যান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সাথে বর্ণাঢ্যময় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ১৯১৪ সালে অস্ট্রেলীয় একাদশের সাথে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। এ সফরে টেমুকায় অনুষ্ঠিত সাউথ ক্যান্টারবারি পঞ্চদশ দলের বিপক্ষে দুই-দিনের খেলায় অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। দলের ৯২২/৯ রানের মধ্যে তিনি ৩৫৪ রান তুলেন। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় এ ইনিংস খেলাকালে চৌদ্দটি ছক্কা ও পঁয়তাল্লিশটি চারের মারেই ২৬৪ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। অষ্টম উইকেটে ভিক্টর ট্রাম্পারের সাথে ৬৯ মিনিটে ২৯৮ ও মন্টি নোবেলের সাথে এক পর্যায়ে নয় মিনিটে ৫০ রান যুক্ত করেছিলেন।

স্বীয় ভ্রাতা রেভারেন্ড জে. সি. ক্রফোর্ড ও ভ্রাতৃষ্পুত্র মেজর এফ. এফ. ক্রফোর্ড – উভয়েই কেন্টের পক্ষে খেলেছেন। ২ মে, ১৯৬৩ তারিখে সারের এপসম এলাকায় ৭৬ বছর ১৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট