| |

জ্যাক বোর্ড

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৭ তারিখে ব্রিস্টলের ক্লিফটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ভীতিহীন ও ক্লান্তিহীন অবস্থায় চমৎকারভাবে উইকেট-রক্ষণে নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। খেলার ধরন তাঁর দর্শনীয় ছিল না। তবে, উইকেটে প্রতিরক্ষাব্যূহ সৃষ্টিতে বেশ কুশলী ছিলেন। তবে, ইংল্যান্ড দলের সদস্য থাকা অবস্থায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এরফলে, প্রতিনিধিত্বমূলক একাদশের পক্ষে খুব কমই অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৮৯১ থেকে ১৯১৪-১৫ মৌসুমে বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ দলে খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এছাড়াও, হকস বে ও লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন।

জে. এ. বুশের স্থলাভিষিক্ত হন। বিস্ময়করভাবে উভয়ের উপর নির্ভর করে চল্লিশ বছরের অধিক সময় গ্লুচেস্টারশায়ারের উইকেট-রক্ষণ পরিচালিত হয়েছিল। এছাড়াও, ব্যাট হাতে স্মরণীয় সফলতা পেয়েছেন। ১৯০০, ১৯০৫, ১৯০৬, ১৯০৭, ১৯০৯ ও ১৯১১ – এ ছয় মৌসুমে সহস্রাধিক রানের সন্ধান পান। তন্মধ্যে, ১৯০০ সালে ব্রিস্টলে সমারসেটের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৪ রান তুলেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯০৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। একবার মাত্র অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ এ সফরে উইকেট-রক্ষক হিসেবে উইলিয়াম স্টোরারের সহকারী ছিলেন। কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। সে তুলনায় ১৮৯৮-৯৯ ও ১৯০৫-০৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বেশ সপ্রতিভ ছিলেন।

১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম উইলসন, ফ্রাঙ্ক মিচেল, ফ্রাঙ্ক মিলিগান, জনি টিল্ডসলে, পেলহাম ওয়ার্নার, শোফিল্ড হেই ও উইলিস কাটেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৯ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

১৯০৫-০৬ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী হলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অনেকগুলো শীতকাল নিউজিল্যান্ডের হকস বেতে কোচ হিসেবে চমৎকারভাবে কাজ করেছেন। অংশগ্রহণকৃত খেলাগুলোয় ১৩৪ ও ১৯৫ রানের ইনিংস উল্লেখযোগ্য। ১৯২১ সালে কাউন্টি খেলাগুলোয় অন্যতম নিয়মিত আম্পায়ারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ দায়িত্বের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯০১ সালে ব্রিস্টলে সারের খেলায় আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। তাৎপর্য্যপূর্ণ বিষয় ছিল যে, গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে যুক্ত হবার পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় তিনি উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এরপর, ১৮৯১ সালে লর্ডসে নর্থ ও সাউথের খেলায় রায়লটসের আর্থিক সুবিধার খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঐ সময়ে ব্যাপক ঋণভারে জর্জড়িত ছিলেন। ১৮৯৬ সালে ওভালে জেন্টলম্যান ও প্লেয়ার্সের মধ্যকার খেলায় প্রথম অংশ নেন এবং ১৯১০ সালে লর্ডসে সর্বশেষ খেলেন।

১৫ এপ্রিল, ১৯২৪ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইংল্যান্ড অভিমুখে আসা এসএস কেনিলওয়ার্থ ক্যাসলে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫৭ বছর ৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বার্ষিক প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত ছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    হাশিম আমলা

    ৩১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে…

  • | |

    গ্রেগ ম্যাথুজ

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর বয়সে রাগবি খেলায় মনোনিবেশ ঘটালেও পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। শুরুতে অফ-স্পিনার ও অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে খেলায় প্রভাব ফেলতেন। তবে, উচ্চ…

  • |

    গ্রেগ লাভরিজ

    ১৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ দারুণ ছিল। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    মার্ভ হিউজ

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইউরোয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ম্যাড মার্ভ’, ‘সুমো’ কিংবা ‘ফ্রুটফ্লাই’ ডাকনামে ভূষিত মার্ভ হিউজ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন।…

  • | |

    টেরি অল্ডারম্যান

    ১২ জুন, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মিডিয়াম পেসার হিসেবে দৃশ্যতঃ ইংল্যান্ডের মাটিতে দূর্দমনীয় ছিলেন। সর্বদাই মৃদু হাসি নিয়ে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। যতক্ষণ বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত…

  • |

    বিলি ফ্রাঙ্ক

    ২৩ নভেম্বর, ১৮৭২ তারিখে কেপ কলোনির কিং উইলিয়ামস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৮৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৫-৯৬…