|

জ্যাক ব্যাডকক

১০ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে তাসমানিয়ার এক্সটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কৃষক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

তাসমানীয় বংশোদ্ভূত লিন্ডসে ব্যাডকক ও লিলি মে দম্পতির তিন সন্তানের দ্বিতীয় ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে স্থানীয় বিদ্যালয় ত্যাগ করে পারিবারিক খামারে কাজ করতে থাকেন। ওয়েস্টমোরল্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনে এক্সটনের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। বাড়ীর খোলা মাঠে কনক্রিট পিচ নির্মাণ করে তাঁর পিতা প্রশিক্ষণ দিতেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন।

ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। ব্যতিক্রমী পন্থায় সবল কব্জির মোচরে কাট ও হুক শটে পারদর্শী ছিলেন। শুরু থেকেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ষোল বছর পূর্তির পূর্বেই ১৯২৯ সালে তাসমানিয়ার পক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে।

১৯৩৬ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড, মরিস সিভার্স ও রে রবিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জ্যাক ফিঙ্গলটনের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। বাউন্ডারি হাঁকান। তবে, ৮ রান তুলে গাবি অ্যালেনের বলে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ বল মোকাবেলা করে শূন্য রান তুলেন। তবে তাঁর স্বান্তনা এই যে, ডন ব্র্যাডম্যান ও জ্যাক ফিঙ্গলটনের সম্মিলিত বল মোকাবেলার ক্ষেত্রে তিনি দুই বল বেশী খেলেছিলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি গাবি অ্যালেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল পরাজয়ের কবলে পড়ে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ সালে মেলবোর্নে অ্যাশেজ নির্ধারণী টেস্টে ১১৮ রানের ইনিংস খেলে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু বাদ-বাকী এগারো ইনিংসে তেমন কোন ভূমিকাই রাখতে পারেননি। কোনটিতেই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। শতক হাঁকানোর কল্যাণে ১৯৩৮ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়। এ সফরে কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় দারুণ খেললেও চার টেস্ট থেকে মাত্র ৩২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই ডগ রাইটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। লেন হাটনের ৩৬৪ রানের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকা ঐ টেস্টে তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল বোজের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শেফিল্ড শীল্ডে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। তবে, সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ১৪.৫৪ গড়ে ১৬০ রান তুলেছিলেন। একটি শতক হাঁকালেও পরবর্তী কোন ইনিংসে ১০-এর কোটা অতিক্রম করতে পারেননি।

শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় একবার ত্রি-শতক হাঁকিয়েছেন। টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৪.৫৪। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫১.৫৪ গড়ে ৭৩৭১ রান তুলেছিলেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। অট্টহাসিতে ফেটে পড়তেন। বিদেশ সফরে মুভি ক্যামেরা নিয়ে মত্ত থাকতেন।

মৎস্য শিকার, বন্দুক চালনা ও গল্ফ খেলতে পছন্দ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ৬ এপ্রিল, ১৯৪২ তারিখে মেলবোর্নের সেন্ট ম্যাথুজ ইংল্যান্ড চার্চে ক্যারল ডন ক্রামন্ডের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির এক কন্যা ও দুই পুত্র ছিল। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে তাসমানিয়ার এক্সটন এলাকায় ৬৮ বছর ২৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    সঞ্জীবা বীরাসিংহে

    ১ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব এবং তামিল…

  • |

    ফ্রেডরিক কুক

    ১৮৭০ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজের জাভায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে…

  • | |

    সুরেন্দ্রনাথ

    ৪ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সহজাত প্রকৃতির স্বল্পসংখ্যক ভারতীয় সিমারদের অন্যতম হিসেবে সুইং ও অসম্ভব দম সহযোগে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। উপযোগী পরিবেশে দীর্ঘ সময়…

  • | |

    স্যাম স্ট্যাপলস

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নিউস্টিড কোলিয়ারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তরুণ অবস্থায় স্থানীয় কয়লা শ্রমিকদের সাথে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিছুটা স্লো-মিডিয়াম পেস ধরনের বোলিং করতেন। তবে, দ্রুততার সাথে…

  • | |

    টম হোরান

    ৮ মার্চ, ১৮৫৪ তারিখে আয়ারল্যান্ডের মিডলটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বালক অবস্থায় মেলবোর্নে চলে আসেন। ফিটজরয়ভিত্তিক বেল স্ট্রিট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এখানে অবস্থানকালে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আকৃষ্ট জন্মায়। নিজের সময়কালে ভিক্টোরিয়ার পরিচ্ছন্ন ও মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন।…

  • |

    ইয়ান লেগাট

    ৭ জুন, ১৯৩০ তারিখে সাউথল্যান্ডের ইনভারকার্গিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নেলসন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। এ সময়ে তিনি ক্রিকেট ও রাগবি খেলায় অংশ নিতেন। পরবর্তীতে ক্রিকেট খেলাকেই বেছে নেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের…