|

ইভান ব্যারো

১৬ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে জ্যামাইকার বেলমন্ট পেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে খুব সম্ভবতঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বাপেক্ষা ভালোমানের উইকেট-রক্ষক ছিলেন। এ দেশ থেকে প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ম্যানি মার্টিনডেল ও লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের ন্যায় দ্রুত গতিসম্পন্ন পেসারদের বল দাঁড়িয়ে গ্লাভসবন্দী করেছেন। কখনোবা চশমা পরিহিত অবস্থায় খেলে দর্শকদের বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতেন।

কিংস্টনভিত্তিক উলমার্স বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। খুব সম্ভব ফ্রেড সাসকিন্ডের পর দ্বিতীয় ইহুদী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে তুলনামূলক দূর্বল খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। চার্লস পাসাইলাইগু, জর্জ গ্ল্যাডস্টোন ও অস্কার ডা কস্তা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অসীম সময়ের ঐ টেস্টে ১৫৪৯ বল মোকাবেলা করে মাত্র ছয়টি বাই-রান দিয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ইউয়ার্ট অ্যাস্টিলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে এ অর্জনকালে জর্জ হ্যাডলি ৯৯ রানে অবস্থান করছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা ২০০ রান তুলেন। তিনি ১০৫ রানে বিদেয় নেন।

এর এক বছর পূর্বে কিংস্টনে তাঁরা লর্ড টেনিসনের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৪৮ রান তুলে জ্যামাইকার রেকর্ড গড়েন। তিনি ১৬৯ রান তুলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ সময়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথমসারির উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে, ১৯৩৪ সালে সি. এম. ক্রিস্টিয়ানি’র কাছে স্থানচ্যূত হন। ১৯৩৮ সালে সি. এম. ক্রিস্টিয়ানি’র মৃত্যুর ফলে পুণরায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয় ও ১৯৩৯ সালে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁর খেলার মান নিচেরসারিতে চলে যায়।

২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৬* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। প্রথম টেস্টের পর তাঁর সহকারী জে. ই. ডি. সিলি’র কাছে গ্লাভস স্থানান্তর করতে বাধ্য হন।

অপ্রত্যাশিতভাবে ডন ব্র্যাডম্যানের দুই উইকেট লাভের প্রথমটিতে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। একমাত্র ইহুদী হিসেবে তিনি টেস্টে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

২ এপ্রিল, ১৯৭৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে ৬৮ বছর ৭৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    আকরাম রাজা

    ২২ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, হাবিব ব্যাংক…

  • | | | |

    গ্রাহাম গুচ

    ২৩ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে এসেক্সের হুইপস ক্রস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত পেশাদার ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘জ্যাপ’ কিংবা ‘গুচি’ ডাকনামে ভূষিত গ্রাহাম গুচ ৬ ফুট…

  • |

    রাকিবুল হাসান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে জামালপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের অন্যতম অভিজ্ঞতাবিহীন খেলোয়াড় ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি অবশ্য যথেষ্ট গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও নিজের উইকেট রক্ষার্থে সচেষ্ট ছিলেন। ইনিংস…

  • |

    আলফ্রেড বিন্স

    ২৪ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬…

  • | |

    জিম পার্কস, ১৯৩১

    ২১ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে সাসেক্সের হেওয়ার্ডস হিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আসক্তি গড়ে উঠে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে সর্বাপেক্ষা সদস্যের মর্যাদা পান। তাঁর পরিবারের সাথে সাসেক্সের সম্পর্ক ১৯২৪…

  • |

    আন্দ্রে রাসেল

    ২৯ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাইকেল রাসেল ও সান্দ্রা ডেভিস দম্পতির সন্তান ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনের অন্যতম সেরা মারকুটে ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। ব্যাট হাতে নিয়ে যেমন প্রতিপক্ষকে হতবুদ্ধিতে ফেলেন,…