ইন্তিখাব আলম

২৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৮২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পাঞ্জাব, সিন্ধু ও পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত পাকিস্তান দলকে আরও গতিশীলতা আনয়ণে জোড়ালো অবদান রেখে গেছেন। স্বদেশ ও বিদেশে প্রত্যেক দেশকে পরাভূত করে শক্তিধর দলে পরিণত করতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণের দ্বার অবমুক্তির ফলে প্রভূতঃ অভিজ্ঞতা লাভ সম্ভবপর হয় ও সারে দলের চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছিলেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৪৭ টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। মুনির মালিকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৫ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৪৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিম্নমূখী রানের ড্র হওয়া খেলায় নবম উইকেটে আরিফ বাটের সাথে ৫২ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যকার নতুন রেকর্ড গড়েন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

আব্দুল কাদিরের ন্যায় তাঁর স্পিন বোলিংয়ের মান সমান না হলেও ১৯৭৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের অপরাজিত থাকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এ পর্যায়ে একটি টেস্ট শতক হাঁকিয়েছিলেন।

অধিনায়ক হিসেবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে, এ দায়িত্ব পালনে বেশ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুশতাক মোহাম্মদের পরিবর্তে পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে পাকিস্তানী দলের নেতৃত্বে থেকে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে মার্ক বার্জেসের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৫/৯১। খেলায় তিনি ৭/৫২ ও ৪/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৬৬ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৬/১২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৪ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/৯০ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কলিন ক্রফ্টের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পরও পাকিস্তানী ক্রিকেটে জড়িত ছিলেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ব্যবস্থাপক-কোচের যুগ্ম দায়িত্ব পালন করেন ও এ পর্যায়ে পাকিস্তান দল শিরোপা জয় করেছিল। ইমরান খানজাভেদ মিয়াঁদাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করে গেছেন। ২০০০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে কোচের দায়িত্ব থাকেন। এরপর, অক্টোবর, ২০০৮ সালে বিস্ময়করভাবে দলে ফিরিয়ে আনা হয় ও জিওফ লসনের স্থলাভিষিক্ত হন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে পাকিস্তান দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর পরিবর্তে ওয়াসিম বারিকে মনোনীত করা হয়। এক পর্যায়ে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে পাঞ্জাবের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এরফলে, দলের প্রথম বিদেশী কোচের মর্যাদা পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *