১০ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন। তারচেয়েও কার্যকরী উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, মুলতান, পাঞ্জাব ও রাওয়ালপিন্ডির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে করাচীতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অন্তাও ডি’সুজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী শীতকালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, করাচীতে ব্যক্তিগত একমাত্র অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। ৫৮ রানের এ ইনিংসটিই পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহে পরিণত হয়। ১৯৬২ সালে জাভেদ বার্কি’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৬ আগস্ট, ১৯৬২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। ১০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তিন টেস্টে অংশ নিয়ে রান খরায় ভুগেন। তাসত্ত্বেও, এ সফরে ২৮.২২ গড়ে ১০১৬ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, কেন্টের বিপক্ষে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই শতক হাঁকিয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পিসিবি’র সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও, অনেকগুলো বছর লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তান দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। দুইবার জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে ৭০ বছর বয়সে নাসিম আশরাফের পদত্যাগের পর পিসিবি সভাপতি হন। ৩ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে ৮৫ বছর ১৪৬ দিন বয়সে পাঞ্জাবের লাহোরে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
