২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সীমিত পর্যায়ে বোলিংয়ে কার্যকরী ভাব আনয়ণ করতে পারতেন। গুগলি মারতেন না; তবে, পরিবর্তিত পিচে নিখুঁত স্পিনে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাটালের পক্ষে দূর্দান্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলা উপহার দিয়েছিলেন। ২২.৫৫ গড়ে ৩৬৫ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৪৭ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড সফর করেন। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যাথল রোয়ান, জনি লিন্ডসে, লিন্ডসে টাকেট, টাফ্টি মান, অসি ডসন ও টনি হ্যারিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮৯ রান খরচায় ৭ উইকেট পেয়েছিলেন ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল ফলো-অনের কবল পড়ে। খেলায় তিনি ৩/৪৬ ও ৪/১৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সফরে ২৩.১৭ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করেন। ডার্বিতে অনুষ্ঠিত খেলায় ৬৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট পান। তন্মধ্যে, এক পর্যায়ে হ্যাট্রিকসহ ১ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন।
১৯৪৯-৫০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৫ সালে আবারও ইংল্যান্ড সফরে যান। তবে, হিউ টেফিল্ডের পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ২* ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩০ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অ্যাথল রোয়ান, হিউ টেফিল্ড ও টাফ্টি মানের ন্যায় শীর্ষস্থানীয় স্পিনারদের উপস্থিতিতে তাঁর খেলার সুযোগ কমে যায়। টেস্টগুলো থেকে ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। ২২.৫৫ গড়ে ৩৬৫ উইকেটের সন্ধান পান।
২৫ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে কোয়াজুলু-নাটালের এস্টন এলাকায় ৯০ বছর ১৮৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে সিএসএ প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত সমবেদনা ব্যক্ত করেন।
