২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে নেলসনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এক টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে ‘স্টকলি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের ও ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ডের সদস্য ছিলেন।
১৯৮০ থেকে ১৯৯২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৬৩ টেস্ট ও ৯৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বারো বছরব্যাপী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে সচরাচর বিশ্বের সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। টেস্টে ১৭৬ ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪২৬টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, ব্যাটসম্যান হিসেবেও সুনাম কুড়ান। নিখুঁত গ্লাভসকর্মে দায়িত্ব পালনের পর বলকে সপাটে সীমানার বাইরে ফেলতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। নিজ নামের পার্শ্বে দুইটি টেস্ট শতক দাঁড় করিয়েছেন।
১৯৮০-৮১ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এরপর, একই সফরের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জেজি ব্রেসওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ৭ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রায়েম উডের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। দলীয় অধিনায়ক জিওফ হাওয়ার্থের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে ৬২ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে আঙ্গুলের আঘাতের কারণে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর পরিবর্তে ব্রুস এডগার উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ১১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইকবাল কাশিমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ২৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১৩ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে ১১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। দল সঙ্কটের কবলে পড়ে। ১৩১/৭ থাকা অবস্থায় প্রথম ইনিংসে ১৩৬ বল মোকাবেলান্তে ১৭৩ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে এটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান, নয় নম্বর অবস্থানে টেস্টে সর্বোচ্চ রান ও ১১৮ বল মোকাবেলায় দ্রুততম ১৫০ রান তুলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্র হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। এ পর্যায়ে ১৯৯০-৯১ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৭ ও ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। অ্যান্ড্রু জোন্স ও অশঙ্কা গুরুসিনহা’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। অ্যালেক স্টুয়ার্টের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৮৯ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯৪ সালে নববর্ষের সম্মাননায় ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মেম্বার অব দি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার হিসেবে মনোনীত হন।
১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ড স্পোর্টস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ২৭ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারী চলাকালীন ‘ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ’ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃক ২০১৯-২০ মৌসুমের দৃশ্যমান পদক বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বার্ট সাটক্লিফ পদক লাভের মাধ্যমে সম্মানিত হন। ওয়াল্টার হ্যাডলি, মার্ভ ওয়ালেস, জন রিড, গ্রাহাম ডাউলিং, রিচার্ড হ্যাডলি ও ইয়ান চ্যাটফিল্ডের সাথে এ তালিকায় যুক্ত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এ পদকটি তদ্বীয় পত্নী লুইসকে উৎসর্গ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। লুইস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। হকস বে এলাকায় বসবাস করছেন।
