৬ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেনটোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মোরাডিয়ালক-চেলসী হাইয়ে ভর্তি হন। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ক্রিকেট ও ফুটবলে বিদ্যালয় দলে অংশ নিতেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ডনের সাথে মেনটোন সিসি’র সদস্যরূপে ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে খেলতেন। স্পিনার হিসেবে ক্লাবটির পক্ষে ৪.৫০ গড়ে ২০০ উইকেটের সন্ধান পান। ১১ বছর বয়সে মেনটোন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।
১৫ বছর বয়সে রিচমন্ডে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। স্পিন বোলিং করলেও ক্লাব নির্বাচন কমিটি তাঁকে বাদ দেয়। এরপর, তিনি দ্রুত বোলিংয়ের দিকে ধাবিত হন। ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেটে সাউথ মেলবোর্নের পক্ষে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ক্লাবের প্রথম চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।
১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। কিছুটা এলোমেলো হলেও প্রকৃতমানসম্পন্ন ফাস্ট বোলিং করতেন। প্রথম ইনিংসে ৩/৪৫ লাভ করেন। এ পর্যায়ে তরুণ ববি সিম্পসনকে শূন্য রানে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান।
১৯৫৭ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। লিন্ডসে ক্লাইন, ওয়ালি গ্রাউট ও বব সিম্পসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত খেলেছিলেন ও ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১২৫ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬০-৬১ মৌসুমে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। নাটকীয়তায় ভরা খেলায় তিনি রান আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লিন্ডসে ক্লাইন, ওয়েস হল ও জো সলোমনের সাথে একত্রিত হন। তবে, নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ৭ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ঢিলাকৃতিভাবে নো-বল করেন। আম্পায়ার কলিন এগার বল ছুঁড়ে মারার কারণে এক ওভারে চারবার নো-বল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধতার কবলে পড়েন। খেলায় তিনি ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৬ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এরপর তিনি আর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
গল্ফে পারদর্শী ছিলেন। ভিক্টোরিয়া গল্ফ ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রাবস্থায় ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল খেলতেন। ফেডারেল লীগে মেন্টনের পক্ষে খেলেছেন ও ১৯৫৬ সালের প্রিমিয়ারশীপের শিরোপা বিজয়ের সাথে যুক্ত থাকেন। এছাড়াও, ভিক্টোরিয়ান ফুটবল লীগে খেলার প্রস্তাবনা পান। তবে, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ও ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর বেতার ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এরপর, বিজ্ঞাপনের সাথে যুক্ত থাকেন।
