২৫ জানুয়ারি, ১৯০৫ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে বেশ কার্যকর ব্যাটিং করতে পারতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ক্যান্টারবারির পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সতেরো বছর পর দলটির পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটার প্রায় দুই দশক পর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল তাঁর।
১৯৩১ থেকে ১৯৩২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩১ সালে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক কারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইংল্যান্ডের প্রথম তিন উইকেটের পতন ঘটান ও স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩১/৩ করেন। আর্নল্ড, বেকওয়েল ও ওয়ালি হ্যামন্ড তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৩/১১৩ ও ২/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২০ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সিরিজের সবকটি টেস্টেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।
এরপর, আর দুইটিমাত্র টেস্টে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন ২০ রানের সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, একবার বল হাতে নিয়ে ১/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১২ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, একই সফরের ৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ সিরিজে অনমনীয় থাকা ব্রুস মিচেলকে শূন্য রানে বিদেয় করেছিলেন। ১/৪৮ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। প্রথম ইনিংসে ৫১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ২ রান তুলতে পেরেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৩১ সালে লর্ডসে এমসিসি’র বিপক্ষে ৬/৪৬ লাভের পর খেলায় অংশ নেয়া ডগলাস জার্ডিন মন্তব্য করেন যে, ব্যাট হাতে বলে আঘাত করার পূর্বেই তাঁর দ্রুতগতিসম্পন্ন বল ব্যাটে আঘাত করেছিল। এ সফরে উইকেটপিছু ২৬.৩০ গড়ে রান খরচ করে ৫৮ উইকেট পেয়েছিলেন।
১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে ই. আর. টি. হোমসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে চারটি প্রতিনিধিত্ব খেলার তিনটিতে নিউজিল্যান্ড দলকে পরিচালনা করেছিলেন। তবে, সীমিত পর্যায়ের সফলতা লাভ করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ খেলায়ও সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। সাউথ আইল্যান্ডের শিরোপা লাভসহ ক্যান্টারবারি চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত হন। ক্যান্টারবারি ক্রিকেট প্রশাসনে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি, দল নির্বাচক ও কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ৬ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে ৭৮ বছর ২৫৫ দিন বয়সে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে সড়ক দূর্ঘটনায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
