৮ জুন, ১৯২৪ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতে তিনি। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ওয়েলিংটনভিত্তিক রঙ্গোতাই কলেজে স্বীয় ভ্রাতা রে সহযোগে অধ্যয়ন করতেন। সেখানে উভয়েই হেড প্রিফেক্ট ও রাগবি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ক্রিকেট অধিনায়ক ও ১৯৪২ সালে সিনিয়র অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়ন হন। রাগবিতে ওতাগো দলের চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ১৯৪৭ সালে অল-ব্ল্যাক রাগবি দলের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৩৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৪টি ট্রাই, একটি পেনাল্টি ও একটি ড্রপ-গোল করেন।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বেশ দেরীতে ৩০ বছর বয়সে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ৫৩ খেলায় অংশ নিয়ে ১০২ ক্যাচ ও ২৮ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। সচরাচর, এগারো নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের সদস্যরূপে অকল্যান্ডের বিপক্ষে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। দলের সংগ্রহ ১৫৪/৯ থাকা অবস্থায় মাঠেন নামেন। দশম উইকেটে গ্যারি বার্টলেটের সাথে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন। শেষ উইকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের নতুন রেকর্ড গড়েন। ৩২ রান তুলে রান-আউটের শিকার হলে অপর প্রান্তে গ্যারি বার্টলেট ৯৯ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। এছাড়াও, মানাওয়াতুর ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেটার, রাগবি খেলোয়াড়, কোচ ও দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পাশাপাশি, পালমারস্টোন নর্থ বয়েজ হাই স্কুলের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। ৩৬ বছর সেখানে শিক্ষাদান করেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে রাগবি কোচ ছিলেন। পরবর্তীতে, উপ ও ভারপ্রাপ্ত রেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সম্মানার্থে মিলনায়তনের নামকরণ করা হয়।

১৯৫৫ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলের প্রতিপক্ষ ছিল লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন সফরকারী এমসিসি দল। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে ডুনেডিনের কারিসব্রুকে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লেস ওয়াট ও নোয়েল ম্যাকগ্রিগরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকের পূর্বরাত্রে চারবার লেন হাটনের হাত থেকে চারবার রক্ষা পাবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে, খেলায় তিনি উভয় ইনিংসেই তাঁর ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে এগুলোই তাঁর একমাত্র ক্যাচ ছিল। ১১ নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমে ০ ও ১ রান তুলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

দূর্ভাগ্যবশতঃ নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম পরিচিতি পাওয়া টেস্ট দলের সদস্য ছিলেন। একই সফরের ২৫ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকরা ২০০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬ রানের সর্বনিম্ন ইনিংস খেলেছিল। এ টেস্টে তিনি অজানা কারণে নয় নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। ৩০ বছর বয়সী ইয়ান কাউহুন নিজস্ব দ্বিতীয় ও সর্বশেষ টেস্টের উভয় ইনিংসে অ্যাপলইয়ার্ডের প্রথম বলে কট-আউটে কিং-পেয়ার লাভ করেন। দ্বিতীয় টেস্টে আরও দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ২০ রানে সফরকারীরা জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। রাগবি খেলায় দক্ষ ছিলেন। র‌্যানফার্লি শীল্ডে ওতাগো ও পরবর্তীতে মানাওয়াতুর পক্ষে রাগবি ও গ্রেড ক্রিকেট খেলেছেন। পরবর্তীতে, মানাওয়াতুর পক্ষে উভয় ক্রীড়ায় কোচ ও দল নির্বাচক হন। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সময়কালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে কুইন্স সার্ভিস মেডেল লাভ করেন।

কলেজ জীবনে বেটি পেটলি নামীয় ভবিষ্যতের স্ত্রীর সাথে পরিচিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সিগন্যালম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। বিকন হিলস থেকে লিয়ল বেতে ‘আই লাভ ইউ’ বার্তা প্রেরণ করতেন। এ দম্পতি নিঃসন্তান ছিল। তবে, তাঁর ছাত্ররা ‘তাঁরাই আমাদের সব’ বলে প্রতিধ্বনি করতো। ১৯৮৪ সালে পারাপারমু বিচ এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। পারাপারমু বিচ গল্ফ ক্লাবের সভাপতি হন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে ৮০ বছর বয়সে ওয়েলিংটনের পারাপারমু বিচের নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ সময়ে তিনি অবসর গ্রহণকালীন প্রিয় বিষয় ক্রিকেট খেলা টেলিভিশনের পর্দায় দেখছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ২০০৪-০৫ মৌসুমে ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনে খেলায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা আরও একটি পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তাঁর শবযাত্রায় সহস্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে। তাঁর সম্মানার্থে হাকা প্রদর্শন করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট