১০ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ওয়েলিংটনের লোয়ার হাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘকায় গড়নের পেস বোলার। শুরুরদিকে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে, বেশ আগেভাগেই খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পেটোন-রিভারসাইডের পক্ষে খেলেছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে স্টেট ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের সদস্যরূপে স্টেট ওতাগো ভোল্টসের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে তাঁর অভিষেক হয়। ২০০৫ সালের স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে ২৬.৫৫ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় স্টেট অকল্যান্ড এইসেসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৫৫ লাভ করেন।
২০০৫ থেকে ২০০৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট, ১০টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। শেন বন্ড, ড্যারিল টাফি ও ক্রিস মার্টিনের ন্যায় জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের আঘাতের কবলে পড়লে ২০০৫ সালে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রেগ কামিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারী ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, অভিষেকে দুই টেস্টে সীমিত পর্যায়ের সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। উভয় টেস্ট থেকে একটি করে উইকেটের সন্ধান পান। খুব শীঘ্রই দলের বাইরে চলে যেতে হয়। ২০০৬-০৭ মৌসুমের পূর্ব পর্যন্ত দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির অগোচরে রয়ে যান।
২০০৭ সালে পুণরায় তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। এরপর থেকে নিজের সেরাটা মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। শ্রীলঙ্কা গমনার্থে টেস্ট ও ওডিআই দলে যুক্ত হন। তবে, তাঁকে খেলানো হয়নি। কিন্তু, স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে ২০.৮৫ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করে শীর্ষস্থানে পৌঁছুলে নভেম্বর, ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আঘাতপ্রাপ্ত কাইল মিলসের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে তাঁকে দলের সদস্য করা হয়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২৩ ও ০/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪* ও ০ রান সংগ্রহ করেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৫৮ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১২ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে শাহাদাত হোসেনের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ২/৪৯। খেলায় তিনি ৩/৩৪ ও ২/২৩ লাভ করেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৯ ও ১/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৩৬ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১০৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশে ও দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত সিরিজে দারুণ ছন্দে ছিলেন। এছাড়াও, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের পক্ষেও একই ধারা বহমান রাখেন। ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে নিজের স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন ও পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বিজয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তবে, কিছুদিন বাদেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান।
২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ০ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭৮ ও ৪/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ আসিফের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৪১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪/৩৫ ও ২/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আর্থিক তহবিল গঠনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে, যুক্তরাজ্যে চলে যান। ডার্বিশায়ারে বসবাসকারী স্ত্রীকে সঙ্গ দিতেই তাঁর এ অবসর গ্রহণ। ২০০৯ সালের নিউজিল্যান্ডীয় শীতকালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন। ২০১০ সালে মিডলসেক্সের বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে মুরালি কার্তিকের পরিবর্তে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। লেখালেখিতে তাঁর বেশ ঝোঁক রয়েছে। নিজস্ব ব্লগ পরিচালনাসহ স্থানীয় ডার্বিশায়ার ক্রিকেটে ওয়েবসাইটে লিখে থাকেন।
