২৮ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে এসেক্সের উডফোর্ড গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অংশ নিতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। অনেকের ন্যায় তিনিও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। আর কখনো গুরুত্ব সহকারে ক্রিকেট খেলতেন না। ১৯৩৩ সালে সারের সদস্যরূপে বিশ্ববিদ্যালয় দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছেন। তবে, তেমন সফলতা পাননি। এরফলে, উইনচেস্টারে প্রথম একাদশের পক্ষে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এসেক্সে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনরূপ আপত্তি না আসায় সারে দল ত্যাগ করেন। তাঁর পিতা এ. এইচ. রিড এসেক্সে খেলতেন। ১৯৩৪ সালে প্রবর্তিত ব্রেন্টউড উৎসবের দ্বিতীয় খেলায় কেন্ট দল ৮০৩/৪ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ৫১ বছর বয়সী জ্যাক হবসকে নিজের প্রথম ওভারেই বিভ্রান্ত করেন। প্রথম বল তাঁর ক্যাপ স্পর্শ করে ও পরে বোল্ড করেন। ৭/৩৫ নিয়ে সারে দলকে ৯০ মিনিটেই গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। ঐ মৌসুমের শেষদিকে আরও কয়েকটি কাউন্টির বিপক্ষেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। ৬৯ উইকেট দখল করেছিলেন। এক বছর পর শুরুরদিকের কয়েকটি খেলায় অনুপস্থিত থাকলেও হাডার্সফিল্ডে এসেক্সের সদস্যরূপে অপরাজিত থাকা ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে খেলতে নামেন। ৬/১১ লাভ করে ইয়র্কশায়ারের ইনিংস ৩১ রানে থামিয়ে দেন। পরের খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দশ উইকেট দখল করেন। দুই সপ্তাহ পর ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঐ মৌসুম শেষে ৯৭ উইকট দখল করেন। তবে, এরপর থেকে অধিকাংশ খেলাই ইঙ্গলফিল্ড গ্রীন ও বাটারফ্লাইজের পক্ষে খেলেছিলেন।
১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ আগস্ট, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। জনি ক্লে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৪/১৩৬ ও ২/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তবে, ই. আর. টি. হোমসের নেতৃত্বে শীতকালে অস্ট্রালেশিয়া সফরের পর নিয়োগকর্তা তাঁকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি অথবা ক্রিকেটের যে-কোন একটি বেঁছে নিতে বলেন। সময়গ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২১৯ উইকেট দখল করেছেন। এরফলে সংগৃহীত ১৫৮ রানের তুলনায় তাঁর উইকেট সংখ্যা অধিক ছিল। একবার তিনি উপর্যুপরী আটবার শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন।
৫ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে কর্নওয়ালের ত্রুরো এলাকায় ৮৯ বছর ৩৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
