|

হীরালাল গায়কোয়াড়

২৯ আগস্ট, ১৯২৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস ও বেরার, হোলকার, মধ্য ভারত ও মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বড় ধরনের সফলতা পেয়েছিলেন। ২৩.৬০ গড়ে ৩৭৪ উইকেট ও ১৯.৪২ গড়ে ২৪৮৭ রান পেয়েছেন। সিকে নায়ড়ু’র পরামর্শক্রমে তাঁকে হোলকার সার্ভিস দলে নিযুক্ত করা হয়। তবে, সার্ভিস থেকে সিকে নায়ড়ু’র অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ১৯৫০ সালে হোলকারের স্বর্ণালী সময়ে তিনি প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। ৭৪ রানে ১১ উইকেট দখল করে প্রায় একাকী বাংলা দলের বিপক্ষে দলের সফলতায় অগ্রসর হন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে বোম্বের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় ৩৭ রান করেন। ঐ খেলায় ১০৯ রান খরচায় নয় উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে ভারত দলে ঠাঁই দেয়া হয়। শোচনীয় ঐ সফরে তাঁকে টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। প্রস্তুতিমূলক খেলায় এসেক্সের বিপক্ষে ৫/৪৪ ও গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৪/৩২ পান। এক পর্যায়ে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৫২ সালে সফররত পাকিস্তান দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৫২ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। শাহ ন্যালচাঁদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বিনু মানকড়ের অনুপস্থিতিতে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ম্যাটিং উইকেটে ৩৭ ওভার বোলিং করে ৪৭ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর, আর তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি। ঐ টেস্টে ইনিংস ও ৪৩ রানে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। পাশাপাশি, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পরের মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিজের সেরা খেলা ধরে রাখেন। বাংলার বিপক্ষে ৭৪.৪-৩০-১২৮-৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরপর, চতুর্থ ইনিংসে ৯ উইকেটের পতন ঘটা অবস্থায় সয়াজিরাও ধনবাদের সাথে ৭০ মিনিট ব্যাটিং করে হোলকারের সর্বশেষ রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা চলমান রাখেন। এমনকি, ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে হ্যাট্রিক লাভ করেছিলেন তিনি।

বামহাতি বোলার হিসেবে স্লো থেকে শুরু করে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান ছিলেন। চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে হোলকার দলের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। দুই দশকের অধিক সময় প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তাঁকে বিনু মানকড়ের সাথে অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল।

সহজাত পন্থায় নতুন বলে সিম আনয়ণসহ পুরনো বলকে বাঁক খাওয়ানোয় দক্ষ ছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ বিনু মানকড়ের পাশাপাশি সুভাষ গুপ্তেগুলাম আহমেদের কারণে জাতীয় দলের পক্ষে তেমন খেলার সুযোগ পাননি। ফলশ্রুতিতে, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হয়েছিল।

ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করেন। হোলকার সার্ভিসেসের পক্ষে খেলার পর তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৭৯ বছর ১২৬ দিন বয়সে ২ জানুয়ারি, ২০০৩ তারিখে বাগদোগ্রায় তাঁর দেহাবসান ঘটে। মধ্যপ্রদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ প্রতিযোগিতা তাঁর সম্মানার্থে নামাঙ্কিত করা হয়।

Similar Posts

  • |

    চার্লস ভিন্টসেন্ট

    ২ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৬ তারিখে কেপ কলোনির মোসেল বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম…

  • |

    অ্যালান ল্যাম্ব

    ২০ জুন, ১৯৫৪ তারিখে কেপ প্রদেশের ল্যাঞ্জবানেগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লেগা’ কিংবা ‘ল্যাম্বি’ ডাকনামে পরিচিত অ্যালান ল্যাম্ব ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ওয়েনবার্গ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৭২ থেকে…

  • | |

    মাহমুদ হোসেন

    ২ এপ্রিল, ১৯৩২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটের সূচনালগ্নে অন্যতম তারকা বোলার ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে হার না মানার মানসিকতার কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ…

  • | | |

    ওয়াসিম আকরাম

    ৩ জুন, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘সুইংয়ের সুলতান’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। স্বপ্নবাজ ক্রিকেটার হিসেবেও সবিশেষ সুনাম কুড়ান। স্বর্ণালী সময়ে অধিকাংশ তরুণ বোলারের স্বপ্নের তারকা…

  • | |

    এরিক ডেম্পস্টার

    ২৫ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    আনোয়ার হুসাইন

    ১৬ জুলাই, ১৯২০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে করাচী, বোম্বে, নর্দার্ন…