৩০ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং শৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।
হাইস্কুল মেনলোপার্কে অধ্যয়ন করেছেন। এছাড়াও, প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। টাকস দলের প্রধান সদস্যের মর্যাদা পান। দলকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লাব ক্রিকেটেও প্রভাব বিস্তার করেছেন। মৃদুভাষী হলেও দলের প্রয়োজনে রান তুলতে তৎপরতা দেখান। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্নস, টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, টরন্টো ন্যাশনালসের পক্ষে খেলেছেন।
১৮ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে প্রিটোরিয়ায় নর্দার্নস বনাম গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রাদেশিক তিনদিনের কাপে ৪২.৫৮ গড়ে রান পেয়েছেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে ৫২.১০ ও এরপর ৬৫.২৫ গড়ে রান তুলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ছন্দহীনতার কারণে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসরে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া যায়নি। তবে দুঃসময় অতিবাহিত হবার পর কয়েকটি চারদিনের খেলায় টাইটান্সের পক্ষে স্বীয় গড়কে ৪৬.৭৫-এ নিয়ে যান। ৪০.৪০ গড়ে মোমেন্টাম ওয়ান-ডে কাপের শিরোপা বিজয়ে সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে টাইটান্সের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে ভারতের মুখোমুখি হন। ২৮ বছর বয়সে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।
২০১৯-২০ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। জর্জ লিন্ডে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ৫ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২০২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১ মার্চ, ২০২০ তারিখে বোল্যান্ড পার্কে নিজস্ব প্রথম ওডিআই শতক হাঁকান। তিন-খেলা নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথমটিতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। সাতটি চার ও চারটি ছক্কার মারে ১২৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলারের সাথে ১৪৯ রানের জুটি দাঁড় করান।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ও ব্যাঙ্গালোর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। গ্লাভসকর্মে দক্ষতা প্রদর্শনসহ টাইটান্সকে বেশ কয়েকবার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও, ৫০-ওভারের ক্রিকেটে কার্যকর অফ-স্পিন বোলিং করে থাকেন।
২০২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উসমান খাজা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এইডেন মার্করামের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৮ মার্চ, ২০২৩ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, দলীয় অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা’র অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৮৪ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
