১৮ মে, ১৯০৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হেডিংলিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বামহাতি স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন।
১৯৩১ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৪০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। কিছুটা দেরীতে খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন। ১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ফ্রেডি ব্রাউনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৫২ ও ২/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। বডিলাইন সিরিজে অংশ নেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৫ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়।
সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। পুরো সফরে তাঁর অসামান্য অবদানের ফলে অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন তাঁর পিতাকে চিঠিতে লিখেন যে, ‘প্রথম সফরে হ্যাডলি বেশ খেলেছে। কঠিন সফরের শুরুতে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে না পারলেও ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার হিসেবে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে হ্যাডলি প্রকৃত বন্ধু ছিল ও আমাকে দারুণ সহায়তা করেছে।’
১৯৩৩ সালের শেষদিকে এমসিসি দলের সাথে ভারত সফরেও সফলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। কলকাতায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন ও আট উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, মাদ্রাজের সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে ৪২ রান সংগ্রহসহ খেলায় ১১ উইকেট দখল করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন।
খেলোয়াড়ী জীবন স্বল্পস্থায়ী হলেও ১৯৩৪ সালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে একদিনেই তিনি ১৪ উইকেট দখল করেছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি অন্য যে-কোন বোলারের চেয়ে সর্বাধিক। ঐ খেলায় ১০৪ রান খরচায় ১৫ উইকেট দখল করেন ও উইলফ্রেড রোডসের সাথে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় যৌথভাবে সর্বাধিক উইকেট লাভের সাথে নিজেকে জড়ান। বিখ্যাত তারকা ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন দলের উপর মাখনে উত্তপ্ত ছুড়ির ন্যায় আক্রমণ চালিয়েছিলেন। উভয় ইনিংসেই প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করেছিলেন। সব মিলিয়ে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট কিংবদন্তী ডন ব্র্যাডম্যানকে আটবার বিদেয় করেছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি যে-কোন বোলারের চেয়ে সর্বাধিক ছিল। তাঁর প্রসঙ্গে ব্র্যাডম্যান মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘আমি ক্ল্যারি গ্রিমেট সম্পর্কে সবটুকু জানলেও হ্যাডলি সম্পর্কে ততোটা অবগত নই। তাঁর মাঝে কোন স্থবিরতা বিরাজ করেনি। তাঁর পুরোটা খেলোয়াড়ী জীবনই ক্রিকেটের আদর্শ উপমাস্বরূপ।’
১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪২ ও ৪/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দল ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও পরবর্তীতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ১৯ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ ও ০/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়।
১৯৩৮ সালে নিজ দেশে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩৬ ও ৩/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। এ সফরে দলটি অপরাজিত অবস্থায় দেশে ফিরে আসে। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৬১ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩৯ সালে নিজ দেশে ফিরতি সফরে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৪ ও ২/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে তিনটি অর্ধ-শতরান পেয়েছেন এবং ২৪.৩৭ গড়ে ১৪৪ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, পাঁচবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। টেস্টে অন্য যে-কোন ইংরেজ বোলারের চেয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩৭৮টি খেলায় অংশ নিয়ে ১৪.৯০ গড়ে ১৯৫৬ উইকেট লাভ করেছেন। তন্মধ্যে, ১৬৪বার পাঁচ-উইকেট ও দশবার দশ উইকেট পেয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এতে অংশ নেন। ১৯৪১ সালে গ্রীন হাওয়ার্ডসের ক্যাপ্টেন হিসেবে যুক্ত ছিলেন। গ্রীন হাওয়ার্ডসের ১ম ব্যাটলিয়নের কোম্পানি কমান্ডার হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহত অবস্থায় যুদ্ধবন্দী হন। অতঃপর, ৩১ জুলাই, ১৯৪৩ তারিখে ইতালির কাসার্তা এলাকায় মাত্র ৩৮ বছর ৭৪ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। আহত ও নিখোঁজ হন। বুকে আঘাত পান ও ‘চালিয়ে যাও’ শব্দগুচ্ছ সর্বশেষ ব্যবহার করেন। ১ সেপ্টেম্বর তারিখে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে। ঠিক চার বছর পূর্বে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নেন। হোভে অনুষ্ঠিত খেলায় সাসেক্সের বিপক্ষে ৭/৯ লাভ করেন। যুদ্ধের পূর্বে এটিই তাঁর সর্বশেষ কাউন্টি ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।
