|

হসন্ত ফার্নান্দো

১৪ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মোরাতুয়াভিত্তিক প্রিন্স অব ওয়েলস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন। ফিল্ডার হিসেবেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। মাঠে যে-কোন অবস্থানে দণ্ডায়মান থাকতেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহীরা সাউথ, চিল ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস ক্লাব এবং সেবাস্টিয়ানিটেস ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০২ থেকে ২০০৬ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ৪ আগস্ট, ২০০২ তারিখে সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষ ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। সাত নম্বর অবস্থানে থেকে ব্যাটিংয়ে নামলেও সুবিধে করতে পারেননি। তবে, বল হাতে নিয়ে বেশ ভালো করেছিলেন। পেসের অভাব থাকলেও বোলিংয়ে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে সফল হন।

২০০২-০৩ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান। এছাড়াও, ৩/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৫ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শন পোলকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারী ৩ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দল নির্বাচকমণ্ডলী শ্রীলঙ্কার ওডিআই দলের জন্যে তাঁকে সর্বাগ্রে রাখে। সেবাস্টিয়ানিটিস স্পোর্টস ক্লাবে একটিমাত্র মৌসুম অতিবাহিত করার পরই সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৫.০৫ গড়ে তিনটি শতক সহযোগে রান তুলেন। নিয়মিতভাবে বোলিং করেও কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ১৫.৭৩ গড়ে ৬১ উইকেট দখল করেছেন।

তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। অতঃপর, বাংলাদেশ সফর করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট