৫ আগস্ট, ১৮৬৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কলিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফিল্ডারদেরকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনে পরিবর্তন ও বোলারদের বিশ্রামের বিষয়ে পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, খেলার গতিধারা পরিবর্তনে অনেকাংশেই এগুলো বিরাট ভূমিকা রাখে। ১৮৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৮৮৮ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৮ সালে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৬ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক অ্যাডওয়ার্ডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিক দল ৬১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন।
এছাড়াও, ১৮৮৮, ১৮৯৩ ও ১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন। খেলোয়াড়সূলভ মনোভাব, কৌশল গ্রহণে সক্ষমতার কারণে দলে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। আটটি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন। তন্মধ্যে, পাঁচ খেলায় তাঁর দল জয় পায় ও তিনটিতে পরাজিত হয়েছিল। ১৮৯৬ সালে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ১৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মাটিতে এটিই যে-কোন অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের সর্বশেষ শতক ছিল। এ পর্যায়ে চতুর্থ উইকেটে সিড গ্রিগরি’র সাথে ২২১ রানের জুটি গড়েন। তাঁদের এ সংগ্রহটি যে-কোন উইকেটে তৎকালীন নতুন রেকর্ড ছিল। তবে, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই টম রিচার্ডসনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৩ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ জুলাই, ১৮৯৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫৩ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৬ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ছন্দহীনতার কবলে পড়লেও তাঁর অধিনায়কত্বের বিষয়ে কোন প্রশ্নবোধক পরিবেশের সৃষ্টি হয়নি। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকেরই অভিমত, বিলি মারডকের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার সেরা অধিনায়ক ছিলেন।
১৮৯৭-৯৮ মৌসুম শেষে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৯ ও ০/১৭ লাভ করেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।
একই সফরের ২৯ জানুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৩৩ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
এরপর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৬ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ২১.৯২ গড়ে ৯২১ রান সংগ্রহসহ ৩৫.১৩ গড়ে ২৯ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৮৮০৪ রান ও ৩৮৬ উইকেট পেয়েছিলেন।
জুন থেকে নভেম্বর, ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে দলের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ড গমন করেছিলেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের শুরুরদিকে মাঠ ও মাঠের বাইরে দলের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সর্বদাই নিজেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে, নেতৃত্বের কারণে মূলতঃ অধিক নজর কেড়েছেন। যকৃতের সমস্যার কারণে তাঁর ডানহাতের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। খুব সম্ভবতঃ চারবার ইংল্যান্ড সফরের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। ১০ নভেম্বর, ১৯১৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার আলবার্ট পার্ক এলাকায় ৫১ বছর ৯৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা আলবার্ট ট্রট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ইংরেজ ক্রিকেটার জোনাথন ট্রট তাঁর দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় হিসেবে দাবী করেছেন।
