|

হ্যারি টেক্টর

৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। জ্যাক ও টিম নামীয় ভ্রাতৃদ্বয়ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করেছেন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীর পর বড়দের দলে উৎসাহব্যঞ্জক রেকর্ড গড়ে নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ২০১৮ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে মুনস্টার রেডস ও নর্দার্ন নাইটসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।

২০১৯ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত সফররত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০২০ সালে নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে শান্তলয়ে ২৬ বল মোকাবেলায় ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের ৩২৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অংশ নিয়ে খ্যাতি লাভ করেন। পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবির্নি’র শতক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হলেও তিনি ২০১০-এর দশকের শেষদিকে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অবসর গ্রহণে সৃষ্ট মাঝারিসারির শূন্যতা পূরণে অগ্রসর হন।

দূর্বলতর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশ কয়েকবার ২০ ও ৩০-এর কোটায় রান সংগ্রহ করার পর স্বীয় প্রতিভা বিচ্ছুরণে অগ্রসর হন। জুলাই, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৮ বলে ৭৯ রান তুলে আয়ারল্যান্ডের প্রথম ওডিআই বিজয়ে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। এরপর, আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২২ সালের শুরুতে জ্যামাইকায় তিনটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলকে ওডিআই সিরিজ জয়ে অংশ নেন। একাধারে নয়টি খেলার সাতটিতে ৫০ ঊর্ধ্ব রান ও শেষ দুইটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকান। এছাড়াও, এগুলোর মাঝে মালাহাইডে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত টি২০আইয়ে ৩৩ বল মোকাবেলায় ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

স্বল্প কয়েকজন আইরিশ ক্রিকেটারের অন্যতম অংশ হিসেবে টি২০ খেলোয়াড় হিসেবে বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলে থাকেন। সিপিএলের ২০২২ সালের আসরে বার্বাডোস রয়্যালসের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০২২-২৩ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র অধিনায়কত্বে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলতে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৪ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে বেন হোয়াইট, কার্টিস ক্যাম্ফার, গ্রাহাম হিউম, লরকান টাকার ও মারে কামিন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫০ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২৬ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

২০২৩ সালে অ্যান্ডি বালবির্নি’র অধিনায়কত্বে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলতে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুন, ২০২৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় ০ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয়লাভ করে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে তিনি ১৪ ও ৫০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • |

    স্টুয়ার্ট থম্পসন

    ১৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ৯ জুলাই, ২০১২ তারিখে ডাবলিনে সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক…

  • |

    গ্রাহাম ভিভিয়ান

    ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতে ব্যাট করে শট খেলতেন, লেগ-স্পিন বোলিংয়ে সফলতাপ্রাপ্তির পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ে উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। এছাড়াও, সীমানা ঘেষা এলাকায় ফিল্ডিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তবে, নিজেকে কখনো কোন খেলায় প্রভূত্ব দেখাতে পারেননি।…

  • |

    শহীদ সাঈদ

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, লাহোর, পাকিস্তান…

  • |

    জর্জ থমস

    ২২ মে, ১৯২৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফুটসক্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সব মিলিয়ে ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তিন শতক…

  • |

    ইমতিয়াজ আলী

    ২৮ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে ত্রিনিদাদের মারাভাল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৭৬…

  • | |

    হরবিন্দর সিং

    ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর বয়সে অত্যন্ত প্রতিভাবান মিডিয়াম পেসার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে কানপুরে…