২৭ ডিসেম্বর, ১৮৬৫ তারিখে মিডলসেক্সের স্যান্ডস এন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও পদচারণা ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। স্ট্যাম্পিংয়ের চেয়ে গ্লাভসবন্দীকরণেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ভীতিহীন চিত্তে খেলায় অংশ নিতেন। ১৮৯০ থেকে ১৯১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯০ সালে সাসেক্সের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। এরপর থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সদস্যরূপে যুক্ত ছিলেন। পরের বছর প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ারের তালিকায় নিজের স্থান নিশ্চিত করেন।
প্রথম মৌসুমে ব্রাইটনে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে খেলে একটিমাত্র বাই রান দেন। এ পর্যায়ে প্রতিপক্ষ ৭০৩/৯ রান সংগ্রহ করেছিল। ১৮৯৫ সালে হোভে উপর্যুপরী চার খেলায় মাত্র ছয়টি বাই-রান দিলেও দল ১৯৩৮ রান হজম করে। ১৯০০ সালে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ২৭ গড়ে ৬৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এক বছর বাদে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চ রান তুলেন। হোভে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। একই সালে ব্রাইটনে সমারসেটের বিপক্ষে আটটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। এর পূর্বে ১৮৯৯ সালে টনব্রিজে কেন্টের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেন। ঐ খেলায় ব্ল্যান্ড সবগুলো উইকট পান এবং তিনি উভয় ইনিংসে চারটি করে ক্যাচ নিয়েছিলেন। সাসেক্সের পক্ষে অপর চারটি খেলায় এক ইনিংসে ছয় ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ১৯০৮ সালে কেমব্রিজে অনুষ্ঠিত খেলায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে হার না মানা ৭৪ রান সংগ্রহ করেন। এ পর্যায়ে শেষ উইকেট জুটিতে জর্জ কক্সের সাথে ১৫৬ রান তুলেছিলেন।
সাসেক্সের পক্ষে খেলাকালীন উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ৯২৭টি ক্যাচ ও ২৭৪টি স্ট্যাম্পিং করেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
১৮৯৬ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র তিন টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার হিল, অডলি মিলার, সি. বি. ফ্রাই, চার্লস রাইট, হিউ ব্রোমলি-ডেভেনপোর্ট, লর্ড হক ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বোনর মিডলটনের শিকারে পরিণত হন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিক ঝুঁকে পড়েন। ছয়টি টেস্ট ও ১৬টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ২১ ডিসেম্বর, ১৯২৮ তারিখে সাসেক্সের ওয়েস্ট হিল এলাকায় ৬৩ বছর পূর্তির মাত্র কয়েকদিন পূর্বে ৬২ বছর ৩৬০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
