| |

হ্যারল্ড গিম্বলেট

১৯ অক্টোবর, ১৯১৪ তারিখে সমারসেটের বিকনোলার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

জনৈক কৃষকের সন্তান ছিলেন। শুরুতে ওয়াচেট ও সমারসেট স্ট্রাগলার্স দলের পক্ষে স্থানীয় ক্রিকেটে অংশ নিতেন। এরপর, টানটনে দুই সপ্তাহের যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় তাঁকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। লুইস ও ডেনিস – জ্যেষ্ঠ দুই ভ্রাতার সাথে ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন। উইলিটনভিত্তিক স্কুলে অধ্যয়ন করেন ও পরবর্তীতে, ১৯২৬ থেকে ১৯৩১ সময়কালে বার্নস্টেপলভিত্তিক ওয়েস্ট বাকল্যান্ড স্কুলে পড়াশুনো করেন। তন্মধ্যে, শেষ বর্ষে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এখানে অধ্যয়নকালে ই রস ও পরবর্তীতে শারবোর্ন স্কুলের সাথে যুক্ত এসেক্সের সাবেক ক্রিকেটার ইজে ফ্রিম্যানের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

১৯৩১ সালে ওয়াচেট ক্লাবে যোগ দেন ও ক্লাবের সম্পাদক ডব্লিউজি পেনি’র সাথে সমারসেটে যান। এক পর্যায়ে, ১৯২৬, ১৯৩০ ও ১৯৩৪ সালে টানটনে খেলতে আসা অস্ট্রেলীয়দের খেলা দেখার সুযোগ পান।

সর্বদাই নিজেকে ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি ঘটাতেন। কখনোই সহজাত যোগ্যতাকে নষ্ট হতে দেননি। জুন, ১৯৩২ সালে ওয়েলিংটন স্কুলে সমারসেট স্ট্রাগলার্স দল দশজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আসে। অবশিষ্ট স্থানের জন্যে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ছয় নম্বরে নেমে সাবলীল ভঙ্গীমায় চুয়াত্তর মিনিটে ১৪২ রানের ইনিংস খেলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সমারসেটের তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের কৃতিত্ব অর্জনের পাশাপাশি সর্বাধিক শতক হাঁকান। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালে মার্কাস ট্রেসকোথিক তাঁর ৪৯ শতকের সমকক্ষ হন।

২০ বছর বয়সে অভিষেক খেলায় স্মরণীয় কীর্তির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। জ্যাক মেয়ার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে যাচাই-বাছাই থেকে বাদ পড়লে গ্রামে ফিরে যান ও মে, ১৯৩৫ সালে সমারসেট থেকে জরুরী বার্তা পেয়ে রওয়ানা হন। তবে, সকালের বাস ধরতে ব্যর্থ হলে সঙ্গ পেয়ে ফ্রোমে আসতে সক্ষম হন। সমারসেটের সংগ্রহ ১০৭/৬ হলে তিনি মাঠে নামেন। এসেক্সের বোলিং আক্রমণ রুখে ১৭টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৩ মিনিটে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। তাঁর সংগৃহীত শতকের কল্যাণে দল ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এ শতকটি ঐ মৌসুমের দ্রুততম ছিল ও লরেন্স ট্রফি লাভ করেন।

১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ৬৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সফরকারীরা ঐ খেলায় ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল।

৩৮ বছর বয়সে এসেও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন। শেষ মৌসুমে ২১৩৪ রান তুলে সমারসেটের নতুন রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ১৯৪৮ সালে ইস্টবোর্নে সাসেক্সের বিপক্ষে ৩১০ রানের ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস খেলেন। এরফলে, ১৮৯৬ সালে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে এলসিএইচ পালারিতের ২৯২ রানের ইনিংস ম্লান হয়ে পড়েন।

১৯৫৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের ২০ বছর পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। মিলফিল্ডে প্রশিক্ষণ দেন। ৩০ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে ডরসেটের ডিউল্যান্ডস পার্ক এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৬৩ বছর ১৬২ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি।

Similar Posts

  • |

    আমির মালিক

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের মান্দি বাহাউদ্দিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভালো-মন্দ মিলিয়ে আমির মালিক তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • | | |

    মাইকেল ক্লার্ক

    ২ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিভারপুল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। লেস ক্লার্ক ও ডেবি ক্লার্ক দম্পতির সন্তান। ‘পাপ’ কিংবা ‘ক্লার্কি’ ডাকনামে ভূষিত…

  • |

    রেজিনাল্ড অ্যালেন

    ২ জুলাই, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্লেব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত দলটির পক্ষে খেলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী…

  • |

    মার্ক রাশমেয়ার

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর মাঝে ব্যতিক্রমী প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩-৮৪…

  • |

    স্যামি কার্টার

    ১৫ মার্চ, ১৮৭৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থোরাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের সাথে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, সমসাময়িক অনেকে স্ট্যাম্পের কাছে থাকলেও তিনি তা করতেন না। ব্যাটিংকালে কাঁধের উপর দিয়ে স্কুপ করতেন। ব্যাটিংয়ে…

  • |

    এস শ্রীশান্ত

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে কেরালার কথামঙ্গলমে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ‘গপু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের…