|

হনুমা বিহারী

১৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা কাকিন্দায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ধ্রুপদীশৈলীর সঠিকমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান তিনি। পূব বাতাসের ন্যায় স্থিরচিত্তে খেলে থাকেন। অত্যন্ত স্থির প্রকৃতির ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তাঁর উত্থানপর্বও বেশ ধীরলয়ে ঘটে। তবে, উত্তরণের বিষয়ে অগোচরে ছিল না। ২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল ও হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ১০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড বনাম হায়দ্রাবাদের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী ভারত দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ঐ মৌসুমে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, খণ্ডকালীন বোলার হিসেবে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে ক্রিস গেইলকে গোল্ডেন ডাকে বিদেয় করেন। তৎকালীন দলীয় সঙ্গী ও দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা বোলার ডেল স্টেইনের কাছ থেকেও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান। ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের ষষ্ঠ আসরে হায়দ্রাবাদভিত্তিক বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৯ সালের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষে খেলার জন্যে ₹২ কোটি রূপীতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। টি২০ প্রতিযোগিতায় ব্যাট ও বল – উভয় বিভাগে প্রতিশ্রুতিশীলতার ছাঁপ রাখেন। ২০১৬ সালে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে চলে আসেন।

২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে অন্ধ্রের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। ছয় খেলা থেকে ৭৫২ রান সংগ্রহ করেন। ২০১৮ সালে দেওধর ট্রফি প্রতিযোগিতায় ভারত ‘বি’ দলের সদস্যরূপে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

প্রথম ৬৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৫৯.৭৯ গড়ে রান তুলেন ও দল পরিবর্তনের বছরে ব্যক্তিগত সেরা ৩০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমেও অসাধারণ খেলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৬ গড়ে ১০৫৬ রান তুলেন। ভারত ‘এ’ দল ও ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ক্রমাগত সফলতা লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৪ বছর বয়সে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ভারতের টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি ছিল।

২০১৮ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট খেলছেন। ঐ বছর বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সফরে ব্যাটিং খরায় ভোগা ভারত দলের পক্ষে সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে খেলেন। সিরিজের শেষ টেস্টে অংশ নেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতরানের সন্ধান পান। ১২৪ বল মোকাবেলায় ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে নিয়ে জো রুট, অ্যালাস্টেয়ার কুক ও স্যাম কারেনের উইকেটগুলো লাভ করেন। খেলায় স্বাগতিক দল ১১৮ রানে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

২০১৯-২০ মৌসুমে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। টিম সাউদি অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

বড় ধরনের রান সংগ্রহের কারণে টেস্টে অংশ নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দলের প্রধান খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ২০২২ সালে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে জসপ্রীত বুমরা’র নেতৃত্বে ১ জুলাই, ২০২২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। ২০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় নিয়ে আসে।

Similar Posts

  • | |

    অ্যালান বুচার

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে সারের ক্রয়ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধন করেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ে করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ‘বাচ’ কিংবা ‘বাজি’ ডাকনামে পরিচিত অ্যালান বুচার ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটে অনেকগুলো দায়িত্বের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। হিথ ক্লার্ক গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন…

  • |

    রস মর্গ্যান

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন। মিড-উইকেট বরাবর বল ফেলে রান তুলতে তৎপরতা দেখিয়েছেন। বল হাতে নিয়েও স্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    ফ্রেডরিক কাইজ

    ২১ মার্চ, ১৮৭০ তারিখে কেপ কলোনির জর্জ এলাকায় জন্মগ্রহকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • | |

    নাইজেল হেগ

    ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দারুণ ফিল্ডিং করতেন। জন্ম সনদে ‘লিওনেল এসমে হেগ’ নামে পরিচিত নাইজেল হেগ এটন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। লর্ড হ্যারিসের ভ্রাতৃষ্পুত্র ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল ফিল্ড আর্টিলারিতে যুক্ত ছিলেন ও এম.সি….

  • | |

    মার্ক বার্জেস

    ১৭ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের শৌখিন খেলা থেকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্রান্তিলগ্নে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন ও দলকে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • |

    অ্যান্ডি রবার্টস, ১৯৪৭

    ৬ মে, ১৯৪৭ তারিখে ওয়াইকাটোর টি আরোহা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১১২টি প্রথম-শ্রেণীর…