১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
স্বল্পসংখ্যক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অপর যমজ ভ্রাতা জেমস মার্শাল নিউজিল্যান্ড দলে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের ক্রিকেটের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৯৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সদস্যরূপে খেলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাকিংহামশায়ার ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০০ থেকে ২০০৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট, ৬৬টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৮ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শন পোলক, মাখায়া এনটিনি ও জ্যাক ক্যালিসের ন্যায় খেলোয়াড়দের রুখে দেন। দলের অন্যরা পাততাড়ি গুটিয়ে প্যাভিলিয়নমুখী হলেও তিনি অনঢ় ছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলার একমাত্র ইনিংসে সাত নম্বর অবস্থানে নেমে ১২১ বল মোকাবেলায় ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, প্রথম রান সংগ্রহের জন্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় নেন। প্রথম ৬১ মিনিট তিনি কোন রানের সন্ধান পাননি। কিন্তু, নিউজিল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলী পরের তিন বছর আর তাঁকে খেলায়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
নভেম্বর, ২০০৩ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেক ওডিআইয়ে দূর্দমনীয় ভূমিকা রাখেন। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত তৃতীয় খেলায় ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে ২৪৩ রান তুলেছিলেন। জুন-জুলাই, ২০০৪ সালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অংশগ্রহণে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি লাভে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। ছয় খেলা থেকে ৬৭.৬৭ গড়ে ২০৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষ সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা খেলায় ২১৩ রানে পরাজয়বরণসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আই খেলায় অংশ নেন। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাত রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। টেস্ট দলে ফিরে এসে দারুণ খেলা উপহার দেন।
একই সফরের ১০ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। ১৪৬ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারী ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
অজিদের বিপক্ষে চূড়ান্ত টেস্টে আবারও ৭৬ রান তুলেন। একমাস পর ম্যাকলারিন পার্কে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬০ রান সংগ্রহ করেন। স্টিভ ওয়াহ ও মার্ক ওয়াহ – যমজ ভ্রাতৃদ্বয়ের ন্যায় পরবর্তীতে টেস্ট ক্রিকেটে হামিশ মার্শাল ও জেমস মার্শাল – যমজ ভ্রাতৃদ্বয় একত্রে খেলতেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ২৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র বলে বিদেয় নেন। মাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। জুলাই, ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের আবেরডিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, কিউইদের ওডিআইয়ের ইতিহাসে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ২০০৮ সালে অনুমোদনহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।
