২৬ জুলাই, ১৯২৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান, দূর্দান্ত বোলার ও অসাধারণ ফিল্ডারের পাশাপাশি সফলতম অধিনায়ক ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ১৯৭০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে দলের স্বর্ণালী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চূড়ান্ত খেলায় বেশ বড় ধরনের ইনিংস খেলেছেন। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় উপর্যুপরী চারবার শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
১৯৫২ থেকে ১৯৬০ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৩৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ জুন, ১৯৫২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দত্তা গায়কোয়াড়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, টেস্ট অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি তাঁর। হেডিংলিতে উভয় ইনিংসেই শূন্য রানের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে জিম লেকারের বলে অ্যালান ওয়াটকিন্সের হাতে কট আউটে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে রলি জেনকিন্সের বলে গডফ্রে ইভান্সের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এরফলে, বিশ্বের ষোড়শ ও প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অগৌরবজনক রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। পরবর্তীতে, মনিন্দার সিং ও রশীদ প্যাটেল তাঁর এ রেকর্ডের সাথে যুক্ত হন। খেলায় সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে ভারত দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। অধিনায়ক বিনু মানকড় করাচী টেস্টে তাঁকে নতুন বল নিয়ে আক্রমণের জন্যে আমন্ত্রণ জানান। ৬/৪৯ নিয়ে স্বাগতিক দলকে ১৬২ রানে গুটিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এরফলে, পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় বোলার হিসেবে পলি উমরিগড়ের ৬/৭৪ বোলিংয়ের রেকর্ড ভেঙ্গে পড়ে ও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ২৮ বছর পর ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ফয়সালাবাদে কপিল দেব ৭/২২০ লাভ করে ঐ রেকর্ডটি নিজের করে নেন। একই মৌসুমে লাহোরে ৮/৮৫ নিয়ে তিনি নিজেকে আরও উপরের দিকে নিয়ে যান।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে গ্রীন পার্কে জসু প্যাটেলের অসামান্য ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে ভারতের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়লাভে অংশ নেন। পাকিস্তানের মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তৎকালীন সেরা বোলিং বিশ্লেষণের রেকর্ড দাঁড় করিয়েছিলেন। এছাড়াও, একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় উপর্যুপরী চারটি শতরান করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ১২ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সিন্ধুর স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে গগুমাল কিষেনচাঁদ ও পানানমল পাঞ্জাবী’র পর ভারতের পক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন। তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র অ্যালান সিপ্পি বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৯.৩৮ গড়ে রান তুলেছেন।
১৯৯০-এর দশকে ক্রিকেট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দৌহিত্রীর জন্যে খেলোয়াড়দের সাথে অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে জনৈক ক্রিকেটার তাঁকে বলে উঠেন: ‘মহোদয়, আমি মার্ক টেলর। দলের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে এসেছি। আমি ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ী দলের অধিনায়কের সাথে করমর্দন করতে চাই।’ এ কথা শুনে দর্শকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে মুম্বইভিত্তিক হিন্দুজা হাসপাতালে ৭৬ বছর ৪৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
