৭ জানুয়ারি, ১৯০১ তারিখে লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডার ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯২০ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রতিটিতেই ব্লু লাভ করেন। ১৯২৩ সালে শেষ বর্ষে থাকাকালীন দলের অধিনায়কত্ব করেন। তবে, মিডলসেক্সের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতে পারেননি। প্রশ্নাতীতভাবে নিজের সময়কালে অসাধারণ শৌখিন খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ১৯১৯ সালে অভ্যন্তরীণ খেলায় ৪৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। এ সুবাদে লর্ডসে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯১৯ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জেন্টলম্যান, হার্লেকুইন্স, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।
১৯২২ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এমসিসি দলের সাথে চারবার বিদেশ সফরে যান। ১৯২২-২৩ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার জিলিগান, অ্যালেক কেনেডি, আর্থার কার ও ফ্রাঙ্ক মানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯২৭-২৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ডিপিবি মরকেলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১৩০। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৭/৭০ ও ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২১ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ ও ০/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৬৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ১৫.৪৭ গড়ে ২৬৩ রান ও ৩২.৪০ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৯০ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে লর্ড টেনিসন একাদশের সদস্যরূপে জ্যামাইকা গমন করেন। ১৯৩৩ সালে এমসিসি ও এইচ.ডি.জি. লেভেসন-গাওয়ার একাদশের সদস্যরূপে নিজের সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন।
১৯১৯ থেকে ১৯৩২ সময়কালে মিডলসেক্সের পক্ষে সর্বমোট ১২৭ খেলায় অংশ নিয়ে সাত শতক সহযোগে ৩০.১৯ গড়ে ৫৪৩৪ রান তুলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন। এছাড়াও, বল হাতে ২৭.৪২ গড়ে ৩৮৫ উইকেট পেয়েছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৮/৩৮ পান। এছাড়াও, ১০৭টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। দুই মৌসুমে সহস্র রানের সন্ধান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৩ সালে ৩৩.৩৪ গড়ে ১৪২৪ রান তুলেছিলেন।
১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০ তারিখে লন্ডনের ইসলিংটন এলাকায় ৬৯ বছর ২৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
