|

গ্রাহাম গেডি

২ মে, ১৯২৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওটাহুহু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বেশ দেরীতে খেলার জগতে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে সেরা সময় অতিবাহিত করলেও তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৩৫ বছর। এ মৌসুমে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসেও আরেকটি তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলটির পক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৬৩ সালে তৎকালীন ব্যক্তিগত সেরা ৮৮ রান তুলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম তিন অঙ্কের সন্ধান পান। এছাড়াও, একই খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও সফল হন। সুন্দর ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতে অংশ নেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জন ওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১০ ও ৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার কবলের পূর্বে এটিই নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সর্বশেষ খেলা ছিল। দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৭.৬৬ গড়ে ১৬৬ রান তুলতে সক্ষম হন।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তবে, এ টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর, ১৯৬৫ সালে ভারত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড গমনার্থে দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকার হলে খেলা থেকে দূরে সড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

১০ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে অকল্যান্ডভিত্তিক এমউড হাসপাতালে ৮৫ বছর ১০০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    বিউরেন হেনড্রিক্স

    ৮ জুন, ১৯৯০ তারিখে কেপটাউনের লুইস লিপোল্ট হাসপাতালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বলে পেস ও সুইং আনয়ণে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। ক্রমাগত ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করতে পারেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ওয়াজির আলী

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দর্শনীয় ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও মিডিয়াম পেস বোলার ছিলেন। সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে চমৎকার ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের চতুঃপার্শ্বে শক্তিধর স্ট্রোক খেলতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। যদি সিকে নায়ড়ু না খেলতেন তাহলে তিনি তাঁর সময়কালের সেরা ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা সন্দেহাতীতভাবে…

  • |

    বব হল্যান্ড

    ১৯ অক্টোবর, ১৯৪৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পারডাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ডাচি হল্যান্ড’ ডাকনামে পরিচিতি পান। নিউক্যাসলের ক্লাব ক্রিকেটে সরব ছিলেন। আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বনে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয়…

  • |

    জন কটাম

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্ট্রবেরি হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৮৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    ব্রুন স্মিথ

    ১৩ মার্চ, ১৯২২ তারিখে ক্যান্টারবারির র‍্যাঙ্গিওরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী মাঝারিসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রান্টি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও আগ্রাসী ব্যাটিং করতেন। ১৯৪২-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…

  • |

    মেজর বুথ

    ১০ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লোটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ফালনেক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে, মেক্সবোরা লীগের সাথে জড়িত পাডসে সেন্ট লরেন্স ও ওয়াদ অ্যাথলেটিক ক্লাবের…