| | |

গ্রায়েম ল্যাব্রয়

৭ জুন, ১৯৬৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ৪৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। দলের একমাত্র ইনিংসে এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ও ব্যাটিং উপযোগী পিচে ব্যাপক রান খরচ করে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ উইকেটে রবি রত্নায়েকে’র সাথে ৬৪ রান যুক্ত করেন। নিজে করেন মনোমুগ্ধকর ৪২ রান। এরপর, বল হাতে ৪ উইকেট তুলে নেন। তবে, শ্রীলঙ্কার মাঝে-মধ্যে খেলার সময়সূচীর কারণে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। রাজনৈতিক উত্তেজনায় নিজ দেশে অনেক সময় নিয়ে মাত্র নয় টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ড সফরে নতুন বল নিয়ে রুমেশ রত্নায়েকে’র সাথে সবেমাত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছন্দে ফিরে এসেছিলেন। ১৩ উইকেট দখল করেন। অকল্যান্ডের তৃতীয় টেস্টে অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৩/৪৮ ও ৪/৪২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন এবং কিউইদের বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে ৮০ বলে ১৪ বাউন্ডারি সহযোগে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫/১৩৩ ও ০/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করে টেরি অল্ডারম্যানের বলে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১ মার্চ, ১৯৯১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। প্রথম ইনিংসে নয় নম্বর অবস্থানে থেকে ৭০* রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কান রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান তুলেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৮ ও ৪/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। বোলিং ভঙ্গীমা অনেকাংশেই বিশ্বসেরা কিউই অল-রাউন্ডারের অনুরূপ ছিল। তবে, একইমানের সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ব্যাপক অর্থেই মানসম্পন্ন সুইংয়ের উপর নির্ভর করে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। রুমেশ রত্নায়েকের সাথে নতুন বলে জুটি গড়ে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। সচরাচর উপযোগী পিচেই অধিক সফল হতেন। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন বেশ স্বল্পকালীন ছিল ও তেমন সফলতা পাননি। তাসত্ত্বেও, কিছু মুহূর্ত বেশ দূর্দান্তভাবে অতিবাহিত করেছিলেন।

তবে, এরপর থেকেই খেলায় ছন্দ হারাতে থাকেন। বিভিন্ন কারণে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ততর ছিল। ছয় বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন। নিজের সেরা দিনগুলোয় স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন ও প্রতিপক্ষের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতেন। ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে সফলতা না পেলেও টেস্টগুলো থেকে একটিমাত্র অর্ধ-শতকের সন্ধান পেয়েছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখলেও বড় ধরনের ক্রিকেটে এ সফলতা ধরে রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে গাব্বায় একবার পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ৫/১৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। এরপর, খুব কমই চার উইকেটের সন্ধান পান। এ পর্যায়ে পেস বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি।

অনেকগুলো ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তবে, পুণরায় পুরনো চিত্রে অগ্রসর হন; খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পরও ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। খেলা পরিচালনা করেন। আইসিসি ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৪১টি ওডিআই ও ৪০টি টি২০আই খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের পরিচালনা কমিটির সদস্য হন।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। ৪ জুন, ২০১৮ তারিখে এসএলসি তাঁকে পুণরায় প্রধান দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত করে। ৫ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে নবগঠিত ক্রিকেট পরামর্শক কমিটিতে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহা’র সাথে যোগ দেন।

Similar Posts

  • | | |

    ডেভিড সিনকক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। প্রতিযোগিতার অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে ব্র্যাডম্যান পদক জয় করেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে টিচার্স কলেজ ও ১৯৮৩-৮৪…

  • | | |

    বার্ট সাটক্লিফ

    ১৭ নভেম্বর, ১৯২৩ তারিখে অকল্যান্ডের পন্সনবি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলকে নেতৃত্ব দিলেও কোন টেস্টে জয়ের সন্ধান পাননি। অস্ট্রেলীয় তারকা ক্রিকেটার নীল হার্ভের সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। তিনি তাঁর সময়কালে…

  • |

    স্নাফি ব্রাউন

    ৮ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে বার্বাডোসের রবার্ট টেনান্ট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করলেও ছোটবেলা থেকেই গায়ানায় বসবাস করতে থাকেন। সেখানে ক্রিকেট খেলা শেখেন ও ক্রিকেট জীবনের অধিকাংশ সময় খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ক্লিন্ট ম্যাককে

    ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৯৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী। বেশ নিখুঁত মানসম্পন্ন ও দক্ষতার সাথে ধীরগতির বোলিং করতেন। বেশ ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হন। নর্থ ওয়েস্ট ক্রিকেট…

  • | | |

    অশঙ্কা গুরুসিনহা

    ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের…

  • |

    মোহাম্মদ আইয়ুব

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের নানকানা সাহিব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাঞ্জাব, শেখুপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও শিয়ালকোটের…