|

গর্ডন হোয়াইট

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট সেন্ট জোন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। আগ্রাসী ধাঁচ অবলম্বনে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অফ-সাইডে খেলতেই অধিক পছন্দ করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯০২-০৩ মৌসুম থেকে ১৯১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯০৬ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৪ ও ১৯০৭ সালে দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, ১৯১২ সালের ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, নিজ দেশের ন্যায় সেখানে মোটেই মেলে ধরতে পারেননি। ১৯০৪ সালের সফরে সবগুলো খেলা থেকে ৩০ গড়ে ৯৩৭ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ট্রেন্ট ব্রিজে নটসের বিপক্ষে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বার্ট ভগলার, অব্রে ফকনার, পার্সি শারওয়েল, রেজি সোয়ার্জ ও টিপ স্নুকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১৩ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯০৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে টেড আর্নল্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এ সফরে সেরা দলের সদস্যরূপে গমন করলেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। কেবলমাত্র ব্রিস্টলে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। নমনীয় পিচে অফ-সাইডে দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অনুপযোগী ছিল। কিন্তু, লেগ-ব্রেকে সফলতার স্বাক্ষর রেখে ১৩ রানের কম খরচায় ৭২ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯১২ সালে ব্যাটসম্যান কিংবা বোলার হিসেবে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ঐ বছর ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে লুইস ট্যানক্রেডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ছয় টেস্টের পাঁচটিতে খেলেন। নটিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র হওয়া টেস্টে ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।

১২ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সিডনি বার্নসের শিকারে পরিণত হন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে। এরফলে, সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এমনকি নিজের ছন্দহীন দিনগুলোয়ও শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করতেন। অনেকাংশে মাত্র ছন্দপতনের ন্যায় নিজের পরিচিতি ঘটাতেন। সেরা সময়ে সর্বদাই প্রথমসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। বেশ মুক্তভাবে ও আকর্ষণীয় ভঙ্গীমায় খেলতেন। টেস্টগুলো থেকে মাত্র দুইটি শতরানের সন্ধান পেয়েছেন। এরফলে নিজের দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটেও এ ধারা বহমান ছিল। বড় ধরনের ইনিংস খেলতে পারেননি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ হবার পর ১৭ অক্টোবর, ১৯১৮ তারিখে ফিলিস্তিনের গাজায় মাত্র ৩৬ বছর ২৫৪ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    গ্রেগ ক্যাম্পবেল

    ১০ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর উত্থান পর্ব বেশ দর্শনীয় ছিল। তবে, আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবন স্বল্প স্থায়ী হয়ে পড়ে। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ডেভিড মুতেন্দেরা

    ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারির হাইফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারের কৃষ্ণাঙ্গ শহরতলী থেকে আসা প্রথমদিকের অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন। প্রায় দুই মিটার উচ্চতাসহ শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। অধিক উচ্চতার কারণে পিচ…

  • | |

    ডগ রাইট

    ২১ আগস্ট, ১৯১৪ তারিখে কেন্টের সিডকাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে কেন্ট দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন।…

  • |

    বেন সিলি

    ১২ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট যোসেফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সীমানা এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। ১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।…

  • |

    ব্লেয়ার হার্টল্যান্ড

    ২২ অক্টোবর, ১৯৬৬ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা ইয়ান হার্টল্যান্ড একই দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট…

  • |

    হ্যাডলি কিথ

    ২৫ অক্টোবর, ১৯২৭ তারিখে নাটালের ডান্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পিছনের পায়ের উপর ভর রেখে দূর্দান্ত খেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম…