|

গবো অ্যাশলে

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬২ তারিখে কেপ কলোনির মোব্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে অব্রে স্মিথের নেতৃত্বাধীন সফররত ইংল্যান্ড দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২৫ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিকোলাস থিউনিসেনডিকি রিচার্ডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের দ্বিতীয় টেস্ট ছিল। স্বাগতিকরা ৪৭ ও ৪৩ রানে গুটিয়ে যায়। তিনি দুইবার জনি ব্রিগসের শিকারে পরিণত হন। আট বল থেকে এক ও গোল্ডেন ডাক পান। তবে, ইংল্যান্ড দল ২৯২ রান তুললেও বল হাতে নিয়ে তিনি ৪৩.১ ওভার বোলিং করে ৭/৯৫ পেয়েছিলেন। প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে ইউলিটের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলে প্রথম উইকেটের সন্ধান। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেট পান। দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে এমআরএফ টায়ার্স আইসিসি প্লেয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রথায় ২৫০ পয়েন্ট লাভ করেন। খেলায় তাঁর দল জবুথবু অবস্থায় ছিল। এটিই তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ও তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ অদ্যাবধি এক টেস্টে অংশ নেয়া যে-কোন বোলারের সেরার মর্যাদা পেয়ে আসছে। তবে, খেলায় ২৮ রান খরচায় জনি ব্রিগস ১৫ উইকেট পেলে তাঁর এ সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। এ পর্যায়ে তিনি প্রথম বোলার হিসেবে ইনিংসে ৭ উইকেট পান। ইনিংস ও ২০২ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পরবর্তী মৌসুমে নিউল্যান্ডসে কেপটাউন ক্লাবসের সদস্যরূপে নাটালের বিপক্ষে পরের প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ঐ খেলায় ৬/৪০ ও ১/৩২ লাভ করেন। এরপর, নিউল্যান্ডসে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে আরও দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ৪/৬৬ ও গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে ২/৪৯ পান। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসলে তিনি বর্ডারের সদস্যরূপে ৫/৪২ ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ৩/৫২ লাভ করেন। তবে, কোন খেলাই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদা পায়নি। নিউল্যান্ডসে একমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি ও আর খেলেননি।

দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করা অধিকাংশ ক্রিকেটারের তুলনায় অধিক রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, অংশগ্রহণকৃত খেলাগুলোর মাত্র তিনটি প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১৪.১০ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, সকল ধরনের খেলা মিলিয়ে ১৪.৯৪ গড়ে ৭০ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৪ জুলাই, ১৯৩০ তারিখে রোডেশিয়ার প্লামট্রি এলাকায় ৬৮ বছর ১৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    হ্যারল্ড লারউড

    ১৪ নভেম্বর, ১৯০৪ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নানকারগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে সন্দেহাতীতভাবে সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন। প্রায়শঃই ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • |

    সুব্রত গুহ

    ৩১ জানুয়ারি, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে দূর্দান্ত আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতেন। এছাড়াও, উপযোগী পরিবেশে দারুণ বল করতেন। বিপজ্জ্বনক অফ-কাটারের…

  • | |

    জেফ মস

    ২৯ জুন, ১৯৪৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গ্রুচো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১১ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। মেলবোর্ন, নর্থ মেলবোর্ন ও পাহরানের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    ব্রুস মারে

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ তারিখে ওয়েলিংটনের জনসনভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘাকায় গড়নের অধিকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘদিন অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    স্টিভ স্মিথ

    ২ জুন, ১৯৮৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পিটার স্মিথ ও জিলিয়ান স্মিথ দম্পতির সন্তান। ক্রিস্টি স্মিথ নাম্নী জ্যেষ্ঠা…

  • |

    ইজাজ আহমেদ, ১৯৬৯

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ইজাজ আহমেদ জুনিয়র’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক,…