| |

গিফ ভিভিয়ান

৪ নভেম্বর, ১৯১২ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জি. এল. উইয়ারের সাথে একত্রে বড় হন। ১৯৩০-৩১ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। অকল্যান্ডের প্রতিভাবান ও সহজাত প্রকৃতির বামহাতি অল-রাউন্ডার ছিলেন। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও ক্রিকেটীয় জ্ঞানের কারণে মাত্র ২২ বছর বয়সে অকল্যান্ড দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। বেশ চিন্তাশীল ছিলেন ও সর্বদাই জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের সাথে আলাপচারিতায় নিমগ্ন থাকতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে বেসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত খেলায় ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৫ রান তুলেন।

১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩১ সালে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ২৬৭ দিন। হার্বার্ট সাটক্লিফ ও অ্যামিসের উইকেট লাভের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন ও তাৎক্ষণিকভাবে সকলের নজর কাড়েন। প্রথম ইনিংসে অবশ্য ৩ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

পরের টেস্টে দিলীপসিংজীওয়ালি হ্যামন্ডের উইকেট পেলেও বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ড দল ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি। এ সফরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে শতক হাঁকানোসহ ১০০২ রান ও ৬৪ উইকেট দখল করেন। হ্যারোগেটের খেলাটিতে ১০১ মিনিটে ১২ চার ও চারটি ছক্কায় রান তুলেছিলেন।

১৯৩১-৩২ মৌসুমের শীতকালে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসমে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। প্রথম ইনিংসে ৫২ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। ১০০ ও ৭৩ রান তুলে উভয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসের তিন অঙ্কের রানটি পরবর্তীতে তাঁর একমাত্র শতকে পরিণত হয়। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে লেনক্স ব্রাউনের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ২/৫৪। খেলায় তিনি ৪/৫৮ ও ০/১৫ পেয়েছিলেন। তবে, সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৩৭ সালে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ড সফর করেন। প্রত্যেক টেস্টেই ইনিংস উদ্বোধন করেন। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬২ লাভ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ সিরিজে তিনবার পঞ্চাশের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে জোড়া অর্ধ-শতক ও ওভালে আরেকটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলেন। এ সফরে ৪৯ উইকেট দখল করেন। উভয় সফরেই সহস্রাধিক রান তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে সাত টেস্ট থেকে ৪২.১০ গড়ে ৪২১ রান ও ৩৭.২৩ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন।

পিঠের আঘাত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের অবসান ঘটে। এরপর, ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত হন। এছাড়াও, টেস্ট দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোন খেলায় অংশ নেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন গোলন্দাজবাহিনীতে কাজ করেন। এছাড়াও, ত্রিশের দশকের শেষদিকে স্যার জুলিয়ান কান একাদশের পক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৩৯ সালে দলটির পক্ষে তিনি ও সতীর্থ কিউই তারকা স্টুয়ার্ট ডেম্পস্টার উভয়েই পঞ্চাশোর্ধ্ব গড়ে সহস্রাধিক রান তুলেছিলেন।

আমুদে ব্যক্তি ও অতিথিপরায়ণ হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান গ্রাহাম ভিভিয়ান ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১২ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে অকল্যান্ডে ৭০ বছর ২৮১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    ডেভিড সিনকক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। প্রতিযোগিতার অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে ব্র্যাডম্যান পদক জয় করেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে টিচার্স কলেজ ও ১৯৮৩-৮৪…

  • |

    লুক জংউই

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিশ্রুতিশীল উদীয়মান তরুণ ব্যাটসম্যান হিসেবে অপরিসীম সম্ভাবনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। কিশোরদের ক্রিকেটে বোলারের তুলনায় ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিক সুনাম কুড়ান। তবে, জাতীয় পর্যায়ে খেলতে নেমে কিছুটা…

  • |

    ফ্রাঙ্ক স্মেইলস

    ২৭ মার্চ, ১৯১০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের রিপ্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে দলের পেস বোলার ও বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত…

  • | |

    মার্ভ হিউজ

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইউরোয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ম্যাড মার্ভ’, ‘সুমো’ কিংবা ‘ফ্রুটফ্লাই’ ডাকনামে ভূষিত মার্ভ হিউজ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন।…

  • | | | |

    জন অ্যাম্বুরি

    ২০ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে লন্ডনের পেকহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘এম্বার্স’, ‘আর্নি’ কিংবা ‘নাকল’ ডাকনামে পরিচিত জন এম্বুরি ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। পেকহাম ম্যানর সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন…

  • |

    সেলিম দুরানি

    ১১ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ তারিখে আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কাবুলে জন্মগ্রহণ করলেও ভারতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি ‘প্রিন্স সেলিম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আফগানিস্তানী পাঠান হিসেবে চমৎকার চেহারার লম্বাটে গড়নের অধিকারী…