|

জর্জ স্ট্রিট

৬ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে সারের মুরস ফার্ম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯২৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাসেক্স দলের পক্ষে খেলতে নামেন। তবে, ১৯১২ সালের পূর্ব-পর্যন্ত দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। এ সময়ে তিনি হ্যারি বাটের উত্তরসূরী হিসেবে হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। চার বছর ক্রিকেট খেলা বন্ধ থাকলে নিজেকে ক্রিকেট বিশ্বে মেলে ধরতে পারেননি। ১৯২৩ সালে নিজস্ব শেষ মৌসুমে নিজের সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। তবে, তিনি আরও কয়েক বছর খেলতে পারতেন।

১৯২৩ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমের শীতকালে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় যোগ দেন। লিভসে’র আঙ্গুলের আঘাতের কারণে দ্রুত তারবার্তা প্রেরণ করা হলে তিনি এ সুযোগ পান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৮ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। তবে, বাদ-বাকী দুই টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। ব্রাউনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ১৫ সদস্যের দলের বিপক্ষে খেলে চারটি ক্যাচ ও তিনটি স্ট্যাম্পিং করেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব কমই সুযোগ কাজ লাগাতে পেরেছিলেন। মাঝে-মধ্যে সাসেক্সের পক্ষে কার্যকর রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯২১ সালে কোলচেস্টারে এসেক্সের বিপক্ষে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ৩০৪টি ক্যাচ ও ১১৫টি স্ট্যাম্পিং করেছেন।

১৯১৯ সালে তাঁকে ক্রিকেট মাঠে দেখা যায়নি। ছয়বার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ১৯১৪ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার, ১৯২১ সালে ওয়ারউইকশায়ার, ১৯২২ সালে গ্লুচেস্টারশায়ার ও নর্দান্টস এবং ১৯২৩ সালে ওরচেস্টারশায়ার ও মিডলসেক্সের বিপক্ষে পেয়েছেন। শেষ বছরে হ্যাস্টিংসে ওরচেস্টাশায়ারের বিপক্ষে সাতটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন।

২৪ এপ্রিল, ১৯২৪ তারিখে সাসেক্সের পোর্টসলেড এলাকায় মাত্র ৩৪ বছর ১৪০ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। রাস্তার বাঁকে লরির সাথে ধাক্কায় তাঁর মোটর সাইকেল পার্শ্ববর্তী দেয়ালে আঘাত হানলে ঘটনাস্থলে নিহত হন।

Similar Posts

  • |

    বরুণ আরণ

    ২৯ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বিহারের সিংহভূম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি পেসার হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিভাবান ফাস্ট বোলার হিসেবে দূরন্ত গতিবেগে বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। ভারতের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার। খামখেয়ালীপূর্ণ বোলিং করা সত্ত্বেও কিছু সময় বেশ গতির…

  • | |

    ব্রেন্ডন টেলর

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রাহাম টেলর ও ডেবি টেলর দম্পতির সন্তান। শৈশবকাল থেকে ক্রিকেটে হাতেখড়ি লাভের পরবর্তী বছরগুলোয় নিজেকে জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের পর্যায়ে…

  • |

    ইয়াসির আলী, ১৯৮৫

    ১৫ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের হাজরো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলিং প্রতিভা ছিলেন। প্রচণ্ড দম নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। আটকের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলাকালীন ইয়াসির আলী প্রথমবারের মতো…

  • | |

    জ্যাক শার্প

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৮ তারিখে হিয়ারফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ক্ষীপ্রগতিতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    রেজিনাল্ড হ্যান্ডস

    ২৬ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রন্ডেবশভিত্তিক ডিওসেসান কলেজে অধ্যয়ন করেন। রোডস স্কলার ছিলেন। অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশুনো করেছিলেন। অক্সফোর্ডে অবস্থানকালে ভ্রাতাদের ন্যায় তিনিও রাগবিতে ব্লুধারী হন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে সাউথ বনাম রেস্টের…

  • | |

    টম ল্যাথাম

    ২ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। বামহাতে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘টমি’ ডাকনামে ভূষিত টম ল্যাথাম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পিতা রড ল্যাথাম নিউজিল্যান্ড…