৭ জুন, ১৮৭৫ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের স্টোনলেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম শেষদিকের আন্ডারহ্যান্ড বোলার ছিলেন। ম্যালভার্ন কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৮৯৭ সালে করিন্থিয়ান্সের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। জোহানেসবার্গের ম্যাটিং উইকেটে ৮/৪৩ পান। ১৮৯৮ সালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। তবে, ১৯০২ সালের পূর্ব পর্যন্ত সফলতার সন্ধান পান। অবশ্য, ১৯০১ সালে চারটি অর্ধ-শতকের তিনটি চার ইনিংস থেকে পেয়েছিলেন। ১৯০২ সালে ৫/৩৮ পেলেও তাঁর দল ৩৫ রানে পরাজিত হয়। আরেকবার লিচেস্টারশায়ারের সংগ্রহ ৭১/২ থেকে ৯২ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে তিনি ৯-৩-১১-৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরপর থেকে তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েন। ঐ মৌসুমে পাঁচবার পাঁচ-উইকেট নিয়ে ২১.৩৮ গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেন। তবে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংল্যান্ডের বোলিং বিভাগ বেশ শক্তিধর হবার ফলে লব বোলারের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন পড়েনি।
১৯১০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। টেস্টগুলো থেকে ১৮.২৬ গড়ে ২৩ উইকেট দখল করেছেন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হেনরি লেভসন-গাওয়ার, ক্লড বাকেনহাম, বার্ট স্ট্রাডউইক ও মরিস বার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি লব বোলিং করে ৬/৪৩ ও ২/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৯* ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ১৯ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৫ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে ২০০ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে তিনটি শতক ও নয়টি অর্ধ-শতকের সন্ধান পেয়েছেন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৮.৫৮ গড়ে ৫৫৫৬ রান তুলেছেন। বল হাতে নিয়ে ২১.৩৯ গড়ে ৫০৩ উইকেট দখল করেছেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি আর খেলায় অংশ নেননি। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ফুলব্যাক অবস্থানে খেলতেন। ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ডের বিপক্ষে খেলেছেন।
১৮৯৮ সালে স্বীয় নাম পরিবর্তন করে ‘জর্জ হেওয়ার্ড টমাস সিম্পসন’ রাখেন। ২ অক্টোবর, ১৯৩৬ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের আইকম্ব প্লেস এলাকায় ৬১ বছর ১১৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
