৬ সেপ্টেম্বর, ১৯১৭ তারিখে সারের বাইফ্লিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফ্রান্সিস টমাস মান ও এনিড অ্যাগ্নেস দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। পিতার ন্যায় তিনিও কেমব্রিজ থেকে ব্লুধারী হন। এটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজভিত্তিক পেমব্রোক কলেজে অধ্যয়ন করতেন। এটনে থাকাকালে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে এটন একাদশে তিন বছর খেলেন। ১৯৩৫ সালে চার্টারহাউজের বিপক্ষে শতক হাঁকান। ১৯৩৬ সালে সহোদর ভ্রাতা জনের সাথে লর্ডস স্কুলসের সদস্যরূপে বাদ-বাকী একাদশের বিপক্ষে খেলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন তিনি। ১৯৩৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৩৭ সালে মিডলসেক্সের সদস্যরূপে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলতে নামেন। ই. ডব্লিউ. সোয়ানটনের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। অর্ধ-শতক হাঁকালেও ১৯৩৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। ১৯৩৮ ও ১৯৩৯ সালে দুই বছর ব্লু লাভ করলেও কেমব্রিজ দল কোন জয় পায়নি। ১৯৩৯ সালে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে জে. আর. থম্পসনকে সাথে নিয়ে ২৯৬২ রান তুলেন ও শতক হাঁকান। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর মিডলসেক্সের পক্ষে বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। পর্যাপ্ত সফলতার কারণে কাউন্টি দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের সদস্য ছিলেন। এক পর্যায়ে মিডলসেক্সের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৩৭.৬০ গড়ে ৩৭৬ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকারী ফ্রাঙ্ক মানের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। এরপর, তিনি আরেকটি পারিবারিক অর্জনের সাথে নিজেকে জড়ান। অংশগ্রহণকৃত সাত টেস্টের প্রত্যেকটিতে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পাঁচটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ও দুইটি পরবর্তী গ্রীষ্মে নিজ দেশে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের নেতৃত্বে থাকেন।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রোলি জেনকিন্স ও রেগ সিম্পসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৯ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৭ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৫ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩৬* ও ২ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ১১ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩৮ ও ৪৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে ১৬৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে সাত শতক সহযোগে ২৫.৯১ গড়ে ৬৩৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাঝে-মধ্যে বোলিং করে তিনটি উইকেট দখল করেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে টিসিসিবি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তন্মধ্যে, ১৯৮২ সালে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় জিওফ বয়কট ও গ্রাহাম গুচ বিদ্রোহী দলের নেতৃত্ব থাকাকালে বিতর্কিত বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি, ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এমসিসি’র প্রেসিডেন্ট ও ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৩ সালে সিবিই উপাধীতে ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। চার সন্তানের জনক ছিলেন। জীবনের শেষদিকে স্মৃতিভ্রমের কবলে পড়েন। ৮ আগস্ট, ২০০১ তারিখে বার্কশায়ারের স্টকক্রস এলাকায় ৮৩ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ ও শান্তিতে সম্মানস্থানীয় ছিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে সহায়তা ও নিবেদিতপ্রাণে উজ্জ্বীবিত হয়ে সহজাত নেতৃত্বে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৭ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে মৃত্যু পরবর্তী সময়ে £৫৩৮,৫৮৫ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান।
