৪ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপ কোবরাজ, কেপ টাউন ব্লিৎজ, সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ২১ বছর বয়সে ২৬ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স বনাম গটেংয়ের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
পরবর্তীতে কেপ কোবরাসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ৬ মে, ২০২২ তারিখে শ্রীলঙ্কা ডেভেলপম্যান্ট একাদশের বিপক্ষে শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে ৪৬ বছর বয়সী ড্যারেন স্টিভেন্সের (১৬৮) সাথে ২৬৪ রানের জুটি গড়েন। গ্লোবাল টি২০ লীগের নিলামে বেনোনি জালমি’র পক্ষে যোগ দেন।
দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। অবশেষে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে জেপি ডুমিনি ও ইমরান তাহিরের অবসর গ্রহণের ফলে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে খেলার সুযোগের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। ঐ বছরের মাঝামাঝি ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হলে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০আই দলে জেজে স্মাটসের পরিবর্তে যুক্ত করা হয়।
২০১৯ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। কেশব মহারাজের কাঁধের আঘাতের কারণে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচির জেএসসিএ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। হেইনরিখ ক্লাসেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে তিনি ১৩৩ রান খরচায় চার উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ৩৭ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২০২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২০-২১ মৌসুমে কুইন্টন ডি ককের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১৩৩। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। খেলায় তিনি ০/৪ ও ৫/৬৪ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ৪ রান সংগ্রহ করে হাসান আলী’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। হাসান আলী’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
জুলাই, ২০২১ সালে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা কর্তৃক দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া চারদিনের প্রতিযোগিতায় বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে কেপ কোবরাসের পক্ষে সিএসএ ফোর-ডে ডমিস্টিক সিরিজের পাঁচটি খেলায় অংশ নিয়ে ২০.৯৫ গড়ে ২৩ উইকেট ও ৪৬.০০ গড়ে ৩২২ রান তুলেন। জানুয়ারি, ২০২২ সালে কেন্টের পক্ষে দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দেন।
