১৩ জুন, ১৮৭৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের হাকনল টর্কার্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব সম্ভবতঃ নটিংহ্যামশায়ারের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। দলটিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৮৯৮ সালে ট্রেন্ট ব্রিজ কর্মী হিসেবে যোগ দেন। তবে, ১৯০০ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত পেশাদারী পর্যায়ে হলোওয়ে স্যানিটোরিয়াম সিসিতে খেলেন। এরপর, ১৯০২ সালে আবারও নটিংহ্যামশায়ারের কর্মী হিসেবে যোগ দেন।
১৯০২ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সারের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯০৩ সালে নটিংহ্যামশায়ার একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলতে নামতেন। নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৯ রান তুলতেন। এরফলে, ঐ বছর তাঁর গড় ২০-এর অধিক হয়। ১৯০৪ সালে কাউন্টির পক্ষে প্রথমবারের মতো শতকের সন্ধান পান। ট্রেন্ট ব্রিজে কোল্টস দ্বাবিংশতিতম দলের বিপক্ষে ১২২ রান তুলেন। ঐ আগস্টে উপর্যুপরী প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শতক হাঁকান। এসেক্সের বিপক্ষে ১০৬ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে ১৪৩ রান তুলেন।
১৯০৭ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ১১ টেস্ট খেলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জো হার্ডস্টাফ, কেনেথ হাচিংস ও ডিক ইয়ংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকেই শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ১১৯ ও ৭৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টিবি কটারের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯১২ সালের পর প্রায় ১৮ বছর ইংল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পাননি। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান ও ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল ৫০ বছর। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮৫ ও ৪৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তিনি হয়তোবা আরও খেলতেন। ট্রেন্ট ব্রিজে মৌসুম শুরুর পূর্বে ব্লেজারের পকেট থেকে খামবন্ধ অবস্থায় চিঠিতে এমসিসি থেকে পূর্ববর্তী শীতকালীন সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। ২৪ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে ৫২ বছর বয়সে নটসের সদস্যরূপে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১৮৩ রানের ইনিংস খেলেন। একই ইনিংসে তাঁর সন্তান জর্জ ভার্নন গান ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জর্জ ভার্নন গান নামীয় সন্তানের জনক। ২৯ জুন, ১৯৫৮ তারিখে সাসেক্সের টাইলার্স গ্রীন এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় সন্তানের গৃহে ৭৯ বছর ১৬ দিন তাঁর দেহাবসান ঘটে।
