|

জর্জ বোনর

২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বাথার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ব্যবসায়ী জর্জ বোনর ও সারাহ অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। দীর্ঘ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৯৮ মি) উচ্চতা ও সতেরো স্টোন (১০৮ কেজি) ওজনের অধিকারী ছিলেন। স্বর্ণকেশর ও শ্রশ্মুর কারণে প্রায়শঃই তাঁকে ভাইকিংদের দেবতাদের ন্যায় বিবেচনায় আনা হতো। খুব সম্ভবতঃ ক্রিকেটের ইতিহাসের বড় ধরনের মারকুটে ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। একবার কেনিংটন ওভালের প্যাভিলিয়ন ছাড়িয়ে বল ১৭০ গজ দূরে ফেলেন। আরেকবার বলকে এতোটাই উঁচুতে ফেলেছিলেন যে ফিল্ডারের মুঠোয় পুড়ার পূর্বে দৌঁড়ে ৩ রান তুলেন। নিজের উপর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মনোভাব বজায় রাখতেন। একবার বিশ্বের সেরা তিনজন ব্যাটসম্যানের প্রশ্নের উত্তরে ডব্লিউ. জি. এবং মারডকের পর নিজেকে তৃতীয় হিসেবে দাবী করে বসেন।

১৮৮০ থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৮৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলেন। এরপর, নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৮৮০ থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। পাঁচবার ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৮৮০ সালে ৯ গড়ে ১৪৫ রান, ১৮৮২ সালে ২০ গড়ে ৮১৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ১৮৮৪ সালে ১৯ গড়ে ৯৩৭ রান, ১৮৮৬ গড়ে ৫৮১ রান ও ১৮৮৮ সালে ১৯ গড়ে ১২০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শেষের সফরটিতে পার্সি ম্যাকডোনেলের পর ব্যাটিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন।

১৮৮০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। জোই পালমার, জিম স্লাইট, পার্সি ম্যাকডোনেল, টম গ্রুব, উইলিয়াম মোল ও জর্জ আলেকজান্ডারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম প্রকৃত টেস্ট খেলায় তিনি ২ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।

১৮৮৮ সালে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৩০ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ২১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলোয় ১৬ গড়ে ৫১২ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১২৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সীমানা বরাবর ফিল্ডিং করতেন। উইকেটে ক্ষীপ্রতার সাথে বল ফেরৎ পাঠাতেন।

জীবনের শেষদিকে এসে তাঁর হৃৎপিণ্ডের দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। তবে, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অব্যাহত রাখেন। ব্যক্তিগত জীবনে অকৃতদার ছিলেন। ২৭ জুন, ১৯১২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ইস্ট অরেঞ্জ এলাকায় ৫৭ বছর ১২৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। বাপ্টিস্ট সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • | |

    গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। হারারেভিত্তিক সেন্ট জর্জেস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • | | | |

    গ্লেন টার্নার

    ২৬ মে, ১৯৪৭ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সঠিকমানের ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সীমিত পর্যায়ে আক্রমণাত্মক শট খেললে প্রায়শঃই সমালোচিত হতেন। পরবর্তীতে দলের প্রয়োজনে…

  • |

    জো কক্স

    ২৮ জুন, ১৮৮৬ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ফিল্ডিংয়ে বেশ দূর্বলতার পরিচয় দেন ও সাধারণমানের নিচেরসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    রয় মিলার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত…

  • |

    দিনেশ কার্তিক

    ১ জুন, ১৯৮৫ তারিখে তামিলনাড়ুর তিরুচেন্দার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৭০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘দিনেশ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১০ বছর বয়সে ক্রিকেটে হাতে খড়ি ঘটে তাঁর। পিতার তত্ত্বাবধানে…

  • | | | | |

    শ্রীনিবাসরাঘবন বেঙ্কটরাঘবন

    ২১ এপ্রিল, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, রেফারি ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বেঙ্কট’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয়…