৭ মার্চ, ১৮৬৪ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিল। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৮৯০-এর দশকে নটসে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের বিপরীতে অবস্থান করে তিনি ডানহাতে দ্রুতলয়ে রান তুলতেন। সাধারণত শুকনো উইকেটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল ছিলেন। কাটে বেশ দক্ষ ছিলেন। এছাড়াও, কার্যকর ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের সাথে কভার পয়েন্ট অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। এক পর্যায়ে তাঁর মাঝে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর লক্ষ্য করা যায়। ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত নিজ কাউন্টিতে বসবাস করেন।
এপ্রিল, ১৮৮৩ সালে কোল্টস দ্বাবিংশতিতম দল বনাম নটসের খেলায় অংশ নেন। ৪৪ ও ২২ রান তুলে কোল্টসের উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। কয়েক সপ্তাহ পর লর্ডসে অনুষ্ঠিত নর্থ কোল্টস বনাম সাউথ কোল্টসের খেলায়ও দারুণ খেলেন। ১৮৮৫ সালে নটসের সদস্যরূপে কোল্টস দ্বাবিংশতিতম দলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেন। ১ ও ২ মে, ১৮৮৫ তারিখে নটস কোল্টসের সদস্যরূপে ইয়র্কশায়ার কোল্টসের বিপক্ষে ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। ৭২ ও ২০ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৭/৮৫ লাভ করেন। এরফলে, নটসের সদস্যরূপে সাসেক্সের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।
১৮৮৫ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৫ সালে নটসের পক্ষে আরও চারটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, তেমন সফলতা পাননি। ১৮৮৬ সালে নটসের পক্ষে ছয়টি কাউন্টি খেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তাবনা পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার পরিবর্তে সাসেক্সের পক্ষে খেলার সিদ্ধান্তে অটুঁট থাকেন। লর্ড শেফিল্ডের সাথে যোগাযোগ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলীয় কাউন্টিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। এরফলে, সাসেক্সের পক্ষে আবাসিক শর্তাবলী প্রতিপালনের পথ সুগম হয়। নটসের পক্ষে পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১১.৩৩ গড়ে ৬৮ রান ও ৬৫ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ১৮৮৫ সালে ওভালে সারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লর্ড শেফিল্ড একাদশ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৮৯২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫৪ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৬ মার্চ, ১৯২৩ তারিখে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নটিংহ্যামশায়ারের ম্যান্সফিল্ড এলাকায় ৫৯ বছর ৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা যোসেফ বিন ১৮৯৫ থেকে ১৯০৩ সময়কালে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
