২৬ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে কেন্টের ব্রোমলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ম্যালভার্ন স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। নিজেকে কখনও বিশাল অঙ্কের রান সংগ্রাহকে পরিণত করতে পারেননি। তবে, ১৯২১ থেকে ১৯২২ সময়কালে ম্যালভার্নে অবস্থানকালে দুই বছর বিদ্যালয় দলের উচ্চ মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন। এরল হোমস তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। ম্যালভার্ন থেকে আসা অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের ন্যায় তিনি শেষ মৌসুমে সচরাচর অফ-ড্রাইভ ও কাটের দিকে অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইজডেনে তাঁর অধিনায়কত্বের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। তবে, পরবর্তী স্তরে এর ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।
আগস্ট, ১৯২২ সালে কেন্টের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ দশ রান করেছিলেন। ১৯২৩ সালে অক্সফোর্ডে প্রথম বর্ষের খেলায় তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ঐ বছর কেন্টের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে আরও তিনটি খেলায় অংশ নিলেও তেমন কিছুই সফলতার সন্ধান পাননি। তবে, ক্লাব ক্রিকেটে অধিক সফল হয়েছিলেন। চিজলহার্স্টে ওয়েস্ট কেন্টের সদস্যরূপে শক্তিধর আইজেড দলের বিপক্ষে ৯৩ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯২৪ সালে অক্সফোর্ডে এসেও দৃশ্যতঃ ১৯২৩ সালের পুণরাবৃত্তি ঘটিয়েছিলেন। বড়দের খেলার জন্যে মনোনীত হলেও তেমন সফল হননি। তবে, কিছুটা হলেও প্রথম-শ্রেণীর দিকে এগুচ্ছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৪ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। গ্রেভসেন্ডে কেন্টের সদস্যরূপে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলায় অংশ নেন। ১৯২৭ সালে কেন্টের ৯১তম ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯২৭ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়ালি হ্যামন্ড, ইয়ান পিবলস, রনি স্ট্যানিফোর্থ, বব ওয়াট ও ইউয়ার্ট অ্যাস্টিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বুস্টার নুপেনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। তিনি ৩৯ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৯ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১৯৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল ও র্যাকেট খেলায় দক্ষ ছিলেন। ম্যালভার্নে থাকাকালে ফুটবল একাদশ ও বিদ্যালয় পর্যায়ে র্যাকেট খেলেছেন। ২১ নভেম্বর, ১৯৪০ তারিখে ডেভনের ব্রাম্পফোর্ড স্পিক এলাকায় বিমান মহড়াকালীন মাত্র ৩৭ বছর ৩০০ দিন বয়সে নিহত হন। এ সময়ে তিনি লেফটেন্যান্ট পদবীধারী ছিলেন।
