১২ এপ্রিল, ১৯১১ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

নিখুঁততা ও অসম্ভব দম নিয়ে কিছুটা দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। অবশ্য, খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন ও বোলিং করতে পারতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০ বছর বয়সে বর্ডারের সদস্যরূপে কারি কাপে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও, মাত্র ৪ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। এছাড়াও, বব ক্রিস্পডেভ নোর্সের বল মোকাবেলা করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত পরের খেলা থেকে ৬১ রানের ইনিংস আদায় করে নেন। ১৯৩২ সালে জোহানেসবার্গে চলে যান ও পাঁচ মৌসুম কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে ১৫ গড়ে ৩৩ উইকেট পান।

১৯৫১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্লাইভ ফন রাইনেভেল্ড, জ্যাকি ম্যাকগ্লিউজন ওয়েটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ৪০ বছর ৫৬ দিন বয়স নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট অভিষেকধারীর মর্যাদা পান। কুয়ান ম্যাকার্থি’র সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামেন। ৪৬.২ ওভার বোলিং করে ৪/১৪৬ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০* ও ১১* লাভ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৭১ রানের ব্যবধানে স্মরণীয় জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ৬/৫১ লাভ করেন।

একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যালেক বেডসারের শিকারে পরিণত হন। ২/৭০ ও ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৭.৪৭ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৩.৯১ গড়ে ১৬০ উইকেট পেয়েছিলেন। সাতবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেলেও খেলায় দশ উইকেট পাননি। ১৮.১৫ গড়ে ৮৩৫ রান সংগ্রহের পাশাপাশি বারোটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধবন্দী হয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ড সফর শেষে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ – দুই মেয়াদে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২৮ আগস্ট, ১৯৮২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় ৭১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট