|

গেভিন ইউইং

২১ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অর্ধ-পেশাদারী ক্রিকেটার ছিলেন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অস্থিরতা বিরাজকালীন উল্লেখযোগ্য ত্রাণকর্তা হিসেবে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড ও মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বুলাওয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ তারিখে বুলাওয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবে অনুষ্ঠিত মাতাবেলেল্যান্ড বনাম ম্যাশোনাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। লোগান কাপ প্রতিযোগিতার নিজস্ব প্রথম খেলায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ফেব্রুয়ারি, ২০০২ সালে মাতাবেলেল্যান্ডের সদস্যরূপে ম্যাশোনাল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে শতক হাঁকান। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। ‘ম্যাকি’ ডাকনামে পরিচিতি ছিলেন। এছাড়াও, সিএফএক্স একাডেমিতে থাকাকালীন সতীর্থরা তাঁকে অনেকটা ফোন বুথের ন্যায় সাদৃশ্য থাকায় তাঁকে ‘বুথি’ নামে ডাকতো। পিতা ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ও গেভিন ইউইংয়ের বোলিংয়ের মান উন্নয়নে বিরাট ধরনের প্রভাব রেখেছিলেন। ১৯৯৯ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে খেলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশজন উইকেট শিকারীর অন্যতম ছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডে দুই মৌসুম ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এরফলে, জাতীয় একাডেমিতে স্থান লাভের জন্যে মনোনীত হন। ২০০১ সালে দুই সপ্তাহ সেখানে অবস্থানের পর শারীরিকভাবে অনুপযোগী ও অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডেভ হটন বিতাড়িত করেন। পরের বছরও প্রত্যাখ্যাত হন। এরফলে, ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটানোর প্রয়াস চালান।

২০০৩ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭৩ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ঐ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের মাত্র নয় মাস পরই ২০০২-০৩ মৌসুমে পাকিস্তান গমন করেন। তবে, ঐ সফরে কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

আক্রমণধর্মী মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। সচরাচর, পিছনের পায়ে ভর রেখে বোলিং আক্রমণ মোকাবেলায় অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পুল ও হুক মারতে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭১ রান তুলেন। বোলার হিসেবে বলে তেমন স্পিন আনয়ণ করতে না পারলেও নিখুঁতভাব বজায় রেখে চলেন।

২০০৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়নে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থানকারী ১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন। তবে, বোর্ডের সাথে সমঝোতা আনয়ণের ফলে নভেম্বরে ইংল্যান্ড গমনার্থে জাতীয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ভারত সফরেও দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উইকেট পান ও ১/১৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হয় তাঁর দল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনার কোপানলে পড়লে দলের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। ডেভন ক্রিকেট লীগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে পেইনটনের পক্ষে এক মৌসুম খেলেন। এরপর, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। পরবর্তীতে, ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালে স্কটল্যান্ডের পোলক দলের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেট খেলেন। ঐ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হয়। এরফলে, ২০০৫ সাল থেকে ম্যাচ ফি’র অর্থ লাভের জন্যে বিবেচিত হন। আইসিসি প্রতিবেদন প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে এপ্রিল, ২০০৯ সালে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে অভিযোগ আনেন ও জিম্বাবুয়ে দলে খেলতে অস্বীকৃতি জানান। ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো সংস্কারের ফলে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স দলে যুক্ত হন। সকল স্তরের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করেন। ২০১০-১১ মৌসুমের লোগান কাপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তবে, চূড়ান্ত খেলায় মাউন্টেনিয়ার্সের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে অংশ নিতে পারেননি।

Similar Posts

  • |

    যশস্বী যশওয়াল

    ২৮ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির সূর্য্যবন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯, ভারত ‘বি’, ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে…

  • | |

    স্কচ টেলর

    ২৫ জুলাই, ১৯২৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, উইওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিবিষয়ক ডিগ্রীধারী হন। ইনিংস উদ্বোধনে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম…

  • |

    ফিওন হ্যান্ড

    ১ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আর্ডজিলান কমিউনিটি কলেজে অধ্যয়নের পর টানটনের কুইন্স কলেজে পড়াশুনো করেন। ২০১৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে লিনস্টার লাইটনিংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭…

  • |

    গ্রাহাম শ্যাভলিয়ার

    ৯ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | |

    মার্ক রিচার্ডসন

    ১১ জুন, ১৯৭১ তারিখে হকস বে’র হ্যাস্টিংসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী তিনি। অফ-স্ট্যাম্পের দিকে আসা বলগুলো ক্রমাগত ছেড়ে দিতেন। নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশেষতঃ টেস্ট অঙ্গনে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের…

  • |

    বাপু নদকর্ণী

    ৪ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আন্ডারওয়্যারের পরিবর্তে কটিবস্ত্র পরিধান করতেন। ফলশ্রুতিতে, মহাত্মা গান্ধী’র ব্যবহৃত বস্ত্রের অনুসরণে ‘বাপু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভারত দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন।…