| |

গ্যারি ব্র্যান্ট

১৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের সিনোইয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড ও ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। স্থিরচিত্তের অধিকারী সিম বোলার ছিলেন। নিখুঁততার সাথে কার্যকর ইন-সুইং বোলিংয়ের পাশাপাশি ধীরলয়েও চমৎকারভাবে বোলিং করতে পারতেন। দুই ভাগে দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ৭০টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে যান। এ সফরেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৩০ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কোয়েটায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, বেশ অস্থিরতার মধ্যে সময় অতিবাহিত করেন। তারপর থেকে সাত বছর দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন। অবশ্য, দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালোমানের খেলা উপহার দিলেও দলে যুক্ত হতে পারছিলেন না।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০১-০২ মৌসুমে স্টুয়ার্ট কার্লাইলের নেতৃত্বে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৭ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে কলম্বোয় সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১৬৬ রানে জয় পায়। ১/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দল থেকে উপেক্ষিত ছিলেন। এরপর, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অংশ নিলেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তাসত্ত্বেও, ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে জিম্বাবুয়ের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এরপর, জিম্বাবুয়ে বোর্ডের সাথে আর্থিক সংঘাতে ১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেন। বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২০০৪ সালে সকলকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। এরফলে, দৃশ্যতঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সমাপ্তির আশঙ্কা করা হয়।

তবে, ২০০৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতা চলাকালীন অপ্রত্যাশিতভাবে দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। ১৩ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার পূর্বে আঘাতের কবলে পড়া টেরেন্স ডাফিনের স্থলাভিষিক্ত হন। একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও, সাত ওভারে ১/২৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন এবং ব্যাট হাতে নিয়ে দশ রান তুলে জিম্বাবুয়ে দলকে ১৩০ তুলতে যথার্থ ভূমিকা রাখেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১০১ রানে পরাজিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেলেও দূর্বলতর দলটির বয়োজ্যেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। এ পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা চালান।

এক মৌসুম পর ২০.৩১ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেন। এরপর থেকে বোলিংয়ের মান নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে। তাসত্ত্বেও, একদিনের আন্তর্জাতিকে নিজস্ব ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ২০০৭ সালে হারারেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় নয় ওভার বোলিং করেন। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অবিশ্বাস্য বিজয়ে দারুণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। থার্ডম্যান অঞ্চলে রিকি পন্টিংকে কট বিহাইন্ডে ও ব্রেট লিকে বিদেয় করে নির্ধারিত চার ওভারে ২/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। নভেম্বর, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন।

জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকে ক্রমাগত উপেক্ষা ও সীমিত পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও, ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তিতে না আসার কথা জানান। ওয়ারউইকশায়ারের রাগবি স্কুলে ক্রিকেট পেশাদার হিসেবে দুই মৌসুম দায়িত্ব পালনের পর নিজ দেশে ফিরে আসেন।

২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২০০৮ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ইংল্যান্ডে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে আঞ্চলিক যুব দলের কোচের দায়িত্বে যুক্ত হন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে কাজ করছেন।

কাকাতো ভাই ডেভিড ব্রেন্ট মাউন্টেনিয়ার্স ও এসেক্স দ্বিতীয় একাদশ এবং অপর কাকাতো ভাই জন ব্রেন্ট মনিকাল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।

Similar Posts

  • |

    ডিওয়াল্ড প্রিটোরিয়াস

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ের নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছেন। স্ট্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় বেশ ছন্দোবদ্ধ উচ্চ ভঙ্গীমায় বোলিং করে থাকেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    সাকিব মাহমুদ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রোচডেলভিত্তিক ম্যাথু মস হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১২ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন।…

  • |

    উইলিয়াম শল্ডার্স

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ট্রোকপ্লে খেলে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতেন। তবে, দূর্ভাগ্যজনকভাবে শুরুটা বেশ ভালো করলেও প্রকৃতপক্ষে বড় ধরনের ইনিংসের সন্ধান পাননি। মিডিয়াম পেস বোলিং করলেও…

  • | | |

    ওয়াসিম বারি

    ২৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিংয়েও পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানে মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক না থাকলেও সেরাদের কাতারে অবস্থানে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন স্ব-মহিমায়। রডনি মার্শ কিংবা জেফ ডুজনের ন্যায় দর্শনীয় না হলেও…

  • | | | |

    শেন ওয়ার্ন

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফার্নট্রি গালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক কিংবা লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ওডিআইয়ে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্রিকেট জগতে পদার্পণকালীন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব পেস ও…

  • |

    অ্যালেন লিসেট

    ৬ নভেম্বর, ১৯১৯ তারিখে ওয়াইকাতোর মরিন্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আর.এন.জেড.এ.এফে যুক্ত ছিলেন। হ্যামিল্টনে সপ্তম এয়ার ট্রেনিং কোর স্কোয়াড্রন গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এম.বি.ই. পদবীতে ভূষিত হন। ১৯৫৪-৫৫…