২৭ মে, ১৮৮৭ তারিখে কেন্টের টনব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
প্রচলিত রয়েছে যে, খুবই স্বল্পসংখ্যক ব্যাটসম্যানদের অন্যতম হিসেবে নিজের স্বর্ণালী সময়ে পেস ও স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে উভয়ক্ষেত্রেই পায়ের সমান ব্যবহার করতেন। তড়িৎগতির ব্যাটসম্যান হিসেবে বোলিংয়ের মাধ্যমে খবরদারিত্বের প্রকাশ ঘটাতে বেশ পছন্দ করতেন। কার্যকর বামহাতি স্পিনার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৬ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯ বছর বয়সে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান তুলেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় মাঙ্কি হর্নবিকে বিদেয় করেছিলেন। মৌসুমে ২৮বার সহস্র রান তুলে ডব্লিউজি গ্রেসের সমকক্ষ হন।
১৯০৯ সালে কেন্ট দল আবারও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে। আরও একবার দলের বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। ৩৩ খেলা থেকে ৩২.৫৬ গড়ে ১২৭০ রান, ১৯.৪৩ গড়ে ৭২ উইকেট ও ২৪ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
১৯০৯ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৬৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, একাধারে ৫২ টেস্টে অংশ নিয়ে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড দাঁড় করিয়েছিলেন। ১৪জন ইংরেজ অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলে রেকর্ড গড়েন। নেভিল কারডাস মন্তব্য করেন যে, ‘অন্য কোন ক্রিকেটারই তাঁর ন্যায় সুখে ও বিশ্বস্ততার সাথে খেলতে পারেননি।’
১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ বছর বয়সে ৯ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ডগলাস কারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ডগলাস কারের ন্যায় অভিষেক ঘটা টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। একমাত্র ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে মাত্র ৮ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ১০ ওভার বোলিং করলেও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
তাসত্ত্বেও, পরবর্তী শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে এমসিসি দলে ঠাঁই দেয়া হয়। সেখানে তিনি তেমন সুবিধে করতে না পারলেও বল হাতে বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বার্ট ভগলারের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫৮* ও ০ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৪ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।
একই সফরের ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে এডব্লিউ নোর্সকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/২৩। খেলায় তিনি ৩/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে পম্পি নর্টনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩৩* ও ১১ রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১ ও ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/২৯ ও ৫/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৮ জুন, ১৯২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯২৪-২৫ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১২৩ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৯৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। খেলায় তিনি ২/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ ও ১৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে লিন্ডসে উইয়ারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৫/২০। ৭/৭৬ ও ২/৪৮ লাভ করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি ৬ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের অস্থায়ী দায়িত্বে থেকে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৩২ বছরের অধিক সময়ে ৯৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে উইলফ্রেড রোডসের (১১১০) পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ৪০.৭৭ গড়ে ৫৮৯৫৯ রান তুলেছেন। এরফলে, জ্যাক হবসের সংগৃহীত ৬১৭৬০ রানের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৪৫টি শতরানের ইনিংস খেলে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন। ১৯.৮৭ গড়ে ১৩২বার পাঁচ-উইকেট ও ২৮বার দশ উইকেট নিয়ে ২০৬৬টি উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ডব্লিউজি গ্রেসের (৫৪২১১ রান ও ২৮০৯ উইকেট) পর কেবলমাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পঞ্চাশ হাজারের অধিক রান ও দুই হাজারের অধিক উইকেট লাভ করেছেন। উইকেট-রক্ষকবিহীন সর্বাধিক ১০১৮ ক্যাচ তালুবন্দী করে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এমসিসি ও কেন্টের আজীবন সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, কাউন্টি কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিক পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে টেস্ট ক্রিকেট দেখার জন্যে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। প্রথম পত্নীর দেহাবসানের দশ বছর পর আমেরিকান বিধবা রমণী মার্থা মোর্সের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে কানাডার চেস্টার এলাকায় ৯১ বছর ১৪৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
