২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সেন্ট জর্জের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে একত্রে ফার্স্ট গ্রেড ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে ১৫.৯৫ গড়ে ৪৬ উইকেট দখল করেন। এরপর, উন্নত সুযোগের সন্ধানে কুইন্সল্যান্ডে চলে যান। স্বল্পকালের জন্যে সিডনিতে ফিরে আসলেও পরবর্তীতে সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন কেনসিংটন ক্লাবে খেলেন।
১৯৩৫-৩৬ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন করেন। ২০.৯৪ গড়ে ৫০ উইকেট নিয়ে শেফিল্ড শীল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলস-ভিক্টোরিয়ার প্রাধান্য খর্বকরণে ভূমিকা রাখেন।
১৯৩৬ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ব্যাডকক, মরিস সিভার্স ও রে রবিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ ওভার বোলিং করে ব্যক্তিগত সেরা ৬/১০২ পেয়েছিলেন। তবে, প্রথম ইনিংসে ২/১৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল পরাজয়ের কবলে পড়ে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত তৃতীয় খেলায় নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে খেলেন। স্বাগতিক দল জয় পায় ও ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পরবর্তীতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণের পর ডন ব্র্যাডম্যান, ক্ল্যারি গ্রিমেটকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়াও, ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে মনোনীত হন। এ সফরে ১৯.২৭ গড়ে সর্বমোট ৯২ উইকেট পেলেও টেস্ট থেকে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান।
১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে মাত্র ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৪.৬৮ গড়ে ৩২০ উইকেট দখল করেছিলেন ও ৮৭১ রান তুলেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর সিডনিতে চলে আসেন। আবারও স্বল্প সময়ের জন্যে সেন্ট জর্জের পক্ষে খেলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটে সেন্ট জর্জের পক্ষে সর্বমোট ১৮৬ উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম স্তরের ক্রিকেটে ২১ গড়ে ১২১ উইকেট পেয়েছিলেন।
নারোমার কাছাকাছি এলাকায় নিভৃতচারী হন। এরপর, হকসবারি রিভারের একটি দ্বীপে বসবাস করতেন। এক পর্যায়ে সিডনিতে চলে আসেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ২৫ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্রুকলিন এলাকায় ৬৮ বছর ৩০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। বার্ট ওল্ডফিল্ড তাঁকে অনবদ্য বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি বলকে দক্ষতার সাথে শূন্যে ফেলতেন।
