৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইস্ট মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘকায় ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। ড্রাইভ ও কাটের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে খেলতেন। ১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খুব কম সময়ই মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন।
১৮৮০-৮১ থেকে ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ২২ খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৭৯ গড়ে ৮৬৬ রান তুলেন। দুই শতরানের ইনিংস খেলেন। উভয়টিই এনএসডব্লিউ’র বিপক্ষে সিডনিতে ১৮৯০-৯১ মৌসুমে ১০৬ ও ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ১১২ রান তুলেছিলেন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই সেরা সফলতা পেয়েছেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর শতকই ঐ মাঠে পেয়েছিলেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে সিডনিতে কম্বাইন্ড ভিক্টোরিয়া/এনএসডব্লিউ একাদশের সদস্যরূপে ১৮৮৮ সালের অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ১২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মাত্র এক টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দশ বছরে ২৭ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। জর্জ ম্যাকশেনের সাথে টেস্টে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দল ২৮জন খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছিল। ক্লাব ক্রিকেটে সাউথ মেলবোর্নের পক্ষে দূর্দান্ত খেললে তাঁকে দলে রাখা হয়। এ সময়ে তিনি মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন ও সর্বোচ্চ ৩২ রান তুলেছিলেন। রাবার নিষ্পত্তি খেলায় তিনি মাত্র সাত ও পাঁচ রান তুলেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯৮ রানে পরাভূত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৮৯-৯০ মৌসুমে কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ না নিলেও ১৮৯০ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। দূর্ভাগ্যবশতঃ ইংরেজ পিচে তাঁর ব্যাটিং কৌশল কাজে আসেনি। সব মিলিয়ে ঐ সফরে ১০.০২ গড়ে মাত্র ৩৫২ রান তুলেছিলেন। এরপর আর তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। ১ জুন, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে ৬২ বছর ১১২ দিন বয়সে সলিল সমাধি ঘটে। এ পর্যায়ে ইংল্যান্ডে অবকাশকালীন ১৯২১ সালে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের কয়েকটি খেলা দেখে দেশে ফিরছিলেন।
