৬ জুন, ১৯৩০ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ফার্নওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

মাতা মার্থা গ্রেস ও পিতা ম্যানচেস্টারে ডেভিড ও তাঁকেসহ বসবাস করতেন। মাতা তাঁকে সহায়তাকল্পে বোলিং করতেন। ফ্লিটউড গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর, মিডলটনভিত্তিক কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুলে চলে যান। পরবর্তীতে, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হ্যাটফিল্ড কলেজে পড়াশুনো করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ‘টাইফুন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। আল্ফ গোভারের ছাত্র ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৫২ সালে সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯৫৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৭ টেস্টে অংশ নিয়ে ৭৬ উইকেট দখল করেন। দূরন্ত গতিপণায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৫৪ সালে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৯৫৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। পিটার লোডারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪/৩৫ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২৪ রানে জয় পেলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে অ্যাশেজ সফরে যান। গাব্বায় সফরকারীরা ইনিংস ব্যবধানে পর্যদুস্ত হয়। ৩৮ গজ দূরত্ব অতিক্রম করে বোলিং করে ১/১৬০ লাভ করেন। এছাড়াও, নিজের সেরা ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এসসিজিতে আল্ফ গোভার সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে দূরত্ব কমিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন; পরবর্তী ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে আছে। প্রায় একাকী অস্ট্রেলীয়দেরকে পর্যদুস্ত করে রাখেন। ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৪৫ নিয়ে স্বাগতিকদেরকে ২২৮ রানে গুটিয়ে দেন। এমসিজি টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলকে ১১১ রানে গুটিয়ে দলকে জয় এনে দেন। ৭/২৭ লাভ করেন। তন্মধ্যে, পঞ্চম দিন সকালে আট-বল নিয়ে গড়া ৬.৫ ওভারে ৬/১৬ পেয়েছিলেন। অ্যাডিলেড টেস্টে ১২২ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড দলকে পাঁচ উইকেটে জয় পেতে সহায়তা করেন। এসসিজিতে ২/৬৬ নিয়ে খেলাকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজে ২৮ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। ১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর এটিই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের একমাত্র অ্যাশেজ জয় ছিল। ফলশ্রুতিতে, অধিনায়ক লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দল অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করে।

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমের বড়দিন ও নববর্ষের সময়ে মাত্র দুই টেস্টে নিজস্ব সেরা ছন্দে অবস্থান করেছিলেন। সিডনি ও মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐ দুই টেস্ট থেকে ১৯ উইকেট দখল করলেও লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন দলটি জয়লাভে ব্যর্থ হয়।

১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ জুন, ১৯৫৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে এইচজে টেফিল্ডকে বিদেয় করে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫১ ও ৬/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে হিউ টেফিল্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৭ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/১২৪ ও ৩/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২২ ও ২ রান সংগ্রহ করে নীল অ্যাডককের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ১৩১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৪ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় অংশ নেন। খেলায় ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ১৮.৫৬ গড়ে ৭৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বে ঝড় তোলার পূর্বেই আঘাতে জর্জড়িত হন।

অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। এক পর্যায়ে প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, ধারাভাষ্যকর্মের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ভিক্টোরিয়ার কোচের দায়িত্ব পালনের সাথে জড়িত হন। ভারতে তরুণ বোলারদেরকে প্রশিক্ষণে যুক্ত থাকেন। এছাড়াও, ক্রিকেট লেখক হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২২ নভেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে আরসুলা মাইলস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে মেলবোর্ন টেস্টে বয়সে ছয় বছরের ছোট ফ্যাশন বিক্রয়কর্মী আরসুলা মাইলসের সাথে পরিচয় ঘটেছিলেন। ১৯৫৬ সালে ইউরোপে নয়মাসের ব্যক্তিগত সফরে তাঁরা আবারও মিলিত হয়েছিলেন। ৮ মার্চ, ১৯৫৭ তারিখে মেলবোর্নভিত্তিক ‘দি এজ’ দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে হীরের মুক্তোখচিত আংটি প্রদান করেছিলেন। এ দম্পতির ফিলিপ, সারা ও অ্যানা নাম্নী তিন সন্তান ছিল। গোল্ড কোস্টের কুইন্সল্যান্ডে বসবাস করতেন। ক্রিকেটার ও ক্রিকেট মাঠের তৈলচিত্র অঙ্কন করতেন। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডে ৮৫ বছর ১১৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ৪ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে ইয়ান চ্যাপেল মন্তব্য করেন যে, অগণিত মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারের উত্থান ঘটলেও জেফ থমসন ও ফ্রাঙ্ক টাইসনের ন্যায় বোলারের সন্ধান পাননি।

সম্পৃক্ত পোস্ট